Tuesday, August 24, 2021

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি  দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

 



সিজদারত অবস্থায় কোন এক মুহুর্তের জন্য হলেও এক পায়ের কিছু অংশ জমিনে থাকা জরুরী। আর যদি পূর্ণ সিজদায় দুইও পা জমিন থেকে আলাদা থাকে অর্থাৎ, সম্পূর্ণ সিজদার মধ্যে কিছুক্ষণের জন্যও পায়ের কিছু অংশ জমিনে লাগে নাই তাহলে সিজদাহ্ সহীহ না হওয়ার কারণে নামায হবে না। সেই নামায আবার পড়তে হবে।

আর যদি সিজদারত অবস্থায় আঙ্গুল কিছু সময়ের জন্য জমিন থেকে উঠে যায় এবং উঠার পর আবার সাথে সাথে জমিনের সাথে মিলিয়ে নেয়, তাহলে নামায ভঙ্গ হবে না। তবে মাকরূহ হবে। কারণ, পূর্ণ সময় দুই পা জমিনে রাখা এবং কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাতে মু‘আক্কাদা। [প্রমাণঃ দুররে মুখতার ১:৪৪৭  ফাতাওয়া তাতার খানিয়া ১:৫০৬  হালাবী কবীর ১:৬৮৫ ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪:৩৫ আহসানুল ফাতাওয়া ৩:৩৯৮

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

 


১. একসময় তাওবা করে নেব ,এই চিন্তা করে যারা গুনাহ করে

২. জ্ঞান অর্জন করেও এই জ্ঞানের প্রয়োগ না করা অন্য কে এই জ্ঞানের শিক্ষা না দেয়া 

৩. নিষ্ঠাবিহীন আমল 

৪. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে তাঁর দেওয়া রিযিক ভোগ করা

৫. আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত ফয়সালায় (অর্থাৎ ভালো মন্দ তাকদীরের ওপর) সন্তুষ্ট না হওয়া 

৬. মৃতকে ব্যাক্তিকে কবর দিয়েও কোনো শিক্ষা না নেওয়া। 

Monday, August 23, 2021

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত



🔳 প্রথম ধাপের নাম ইয়াউমুল মাউত!


এই দিনেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, জীবন ফুরিয়ে যাবে। আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করবেন জমিনে গিয়ে জান কবজ করে নিয়ে আসার জন্য ।বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ এই দিনের কথা  জানেনা। যে দিন তার জান কবজ করা হবে  সেইদিন ও সে জানবে না আজ তার জান কবজ করার দিন। মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি না করা সত্বেও শরীরে কিছু পরিবতর্ন অনুভব করবে। ইমানদারের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হবে, আর পাপিষ্ঠদের বুকে কষ্ট চাপ অনুভব করবে। এই সময় শয়তান এবং জীন ফেরেশতাদের নামতে দেখবে। কিন্তু আমরা কেউ তাদের দেখবোনা। এই বিষয়টি  কোরআনে আছে

﴿وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ..﴾

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যেদিন তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে আল্লাহর দরবারে । অতপরঃ প্রতিটি নফসকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে তার কর্মফল। (সূরা বাক্বারা)


🔳 এরপর আসবে দ্বিতীয় ধাপ!


এটা হচ্ছে ধীরেধীরে জান কবজ করার পালা। এই ধাপে মানুষের রুহ পায়ের পাতা থেকে শুরু করে গোছা, হাটু,পেট,নাভি ও বুকের উপর হয়ে মানুষ দেহের "তারাক্বী" নামক জায়গায় পৌছে যায়। এই সময় মানুষ  অস্থিরতা অনুভব করেন। এবং একধরণের অসহনীয় বুুকে চাপ অনুভব করবেন। তখনও তিনি জানতে পারবেন না যে তার জান কবজ করা হচ্ছে ।


🔳 তারপর শুরু হয় তৃতীয় ধাপ!


এই ধাপের নাম " তারাক্বী " কোরআনে এই স্তরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে ;


﴿كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ  وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ  وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ  وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ 

﴾ (سورة القیامة

‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে। এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে’।পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে। ( সূরা কিয়ামাহ )


তারাক্বী বলা হয় কণ্ঠনালিরর নিচে ২ কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়কে। "কে ঝাড়বে" অর্থাৎ আত্মিয়-স্বজনদের কেউ কেউ বলবে : ডাক্তার ডাকি, অন্যজন বলবে ইমারজেন্সিতে কল করি, আবার কেউ বলবে কোরআন পড়ে ফু দেই। এই অবস্থার মধ্যে ও মানুষ জীবনে ফিরে আসার কথা চিন্তা করতে থাকবে । সে বিশ্বাসই করতে চাবেনা যে রুহু তার দেহ ত্যাগ করছে! (وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ সে মনে করবে,বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে ) অর্থাৎ সে এখনো মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত নয়।সে বাচার জন্য অনেক চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু আল্লাহ তা'লা বলেন :(وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ) পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে ) 

অর্থাৎ মৃত্যুর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত হয়েগেছে । রুহু গোছাদ্বয় থেকে বেরিয়ে গেছে।সে আর পা নাড়াইতে চাইলেও পা নাড়াতে পারবেনা।এবং রুহু শরীর থেকে বের হয়ে তারাক্বীতে পৌছে গেছে।

("كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ")

 ‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে!


🔳 অতঃপর আসবে চতুর্থ ধাপ। এই ধাপের নাম হুলক্বুউম :


 মৃত্যুর এটাই শেষ স্তর এবং মানুষের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের অনেক কষ্টদায়ক কঠিন স্তর। ঠিক এই সময় তার চোখের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে।এবং সে তার চারপাশের ফেরেশতাদের দেখতে পাবে। এখান থেকেই আখেরাত দর্শনের স্তর শুরু হবে।

فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ ﴾ ( سورة - ق)

আমি তোমার সামনে থেকে পরদা সরিয়ে দিয়েছি, এখন তোমার দৃষ্টি প্রখর। (সূরা ক্বফ)


এই স্তরকে হুলক্বুউম নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর কালামের কারনে :

{ فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُوم  وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ  وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ }

প্রান যখন কণ্ঠাগত হয় তখন তোমরা তাকিয়ে থাক। আমি তোমাদের চেয়ে তার নিকটবর্তি। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা। (সূরা ওয়াকিয়াহ )


ُআল্লাহ তার পাশের উপস্থিত মানুষদের কে সম্বোধন করে বলছেন ; তোমরা যেখানে আছো সেও সেখানেই আছে ।সে যা দেখতে পারতেছে তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। সে ইমানদার হলে আল্লাহ তাআলার রহমত দেখবে এবং যদি পাপিষ্ঠ হয়  আল্লাহর আজাব এবং গজব দেখছে। এজন্যই আমরা তাকে দেখি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে।

وَنَحْن أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ

 অর্থাৎ আমি তোমাদের তার অধিক নিকটতর কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না । মানুষের জান কবজ এর সময়টা জীবনের সবথেকে কষ্টদায়ক কঠিন মুহূর্ত। তখন সে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুতি ও ভীতি দেখতে পায়। ফেরেশতাদের দেখতে পায়। তার জীবনে যত আমল করেছে তা চোখের সামনে তুলেধরা হয়ে থাকে। আর এই সময় মৃত্যুর ফেতনা ঘটে যায়। শয়তান এই ফেতনায় প্রবেশ করে এবং বিশ্বাসে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ ও নবীর ব্যাপারে,দ্বীনের ব্যাপারে ও কোরআন হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে তার অন্তরে। এবং শয়তান তার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যেন সে বে ঈমান হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। এইসময় শয়তান নিশ্চিত হয়ে যায় যে এটা এই মানুষটির শেষ সময় এবং মালাকুল মাউত তার নিকটবর্তী। এজন্যই কোরআন আমাদের মৃত্যুর ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে বলছে :

﴿وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ(۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ﴾ (سورة المؤمنون).

আপনি বলুন ;হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি শয়তান থেকে। এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি তাদের উপস্থিতি থেকে। (সূরা মুমিন)

তুমি যদি সঠিক পথে তোমার জীবন পরিচালিত করো, এবং যদি অন্তরে আল্লাহ তার রাসুল এর  প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তুমি এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে মুমিন হয়ে বের হবে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে শয়তান তার কোন একজন নিকটাত্মীয়ের আকৃতিতে উপস্থিত হবে যিনি আগেই মারা গেছেন। সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলবে ; আমি তোমার পূর্বে মারা গিয়েছি । ইসলাম সত্য ধর্ম নয় এবং নবী সত্য দ্বীন নিয়ে আসেননি। এবং তোমাকে বলবে; তুমি সবকিছু অস্বীকার করো।

এই পরিস্থিতির কথা আল্লাহ তাআ'লা  কোরআনে বর্ণনা করেন;

﴿كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ﴾  ١٦).

তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান যখন সে মানুষকে বে ইমান করে পেলবে। যখন মানুষ শয়তানের কথায় কুফরি করবে তখন শয়তান তুুমাকে বলবে তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই ।আমি আল্লাহকে ভয় করি। (সূরা হাশর)

🔳 এরপর পঞ্চম ধাপ শুরু হবে !

এই সময় আজরাইল আলাইহিস সালাম প্রবেশ করবেন। এই সময় মানুষ বুঝতে পারবে সেকি জান্নাতি না জাহান্নামী। সে তার আমলনামা দেখবে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্তর নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। বিশেষভাবে যারা বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা না করেই আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন;:﴿وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا﴾ 

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা নির্মমভাবে(রুহ)  টেনে বের করে।(সূরা নাযিয়াত)

জাহান্নামে একদল ফেরেশতা থাকবে যারা আগুনের কাফন প্রস্তুত করে এবং খুব নির্দয়ভাবে পাপীষ্ট ব্যক্তির রুহ কবজ করে। অন্য আয়াতে এই কঠিন পরিস্থিতির চিত্র বর্ণিত হয়েছে ;

﴿فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ﴾

ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমন্ডল এবং পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের রুহ হরণ করবে তখন তাদের কী দশা হবে???(সূরা মোহাম্মদ)

🔳 এই ধাপের পর শুরু হবে ষষ্ঠ ধাপ!


এই ধাপে মানুষের রুহ প্রস্তুত হয়ে তারাক্বীর উপর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্তরে  পৌঁছে যাবে। এবং রুহ বের হওয়ার জন্য এবং আজরাইল আলাইহিস সালাম এর নিকট আত্মসমর্পণের জন্য নাকে মুখে অবস্থান করবে। বান্দা যদি গুনাহগার হয় তখন আজরাইল তাকে বলবে;হে নিকৃষ্ট আত্মা! তুই আগুন ও জাহান্নামের এবং ক্রোধান্বিত ও পপ্রতিশোধপরায়ন রবের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আস। তখন তার আভ্যন্তরীণ চেহারা কালো হয়ে যাবে। এবং চিৎকার করে বলবে ;

 ﴿رَبِّ ارْجِعُونِ. لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ﴾

হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠান যাতে আমি সৎকাজ করি যা আমি পূর্বে করিনি। (সূরা মুমিন)

কারন আমি নেককাজ করতে পারিনি।তখন সে শুনতে পাবে;


﴿كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ﴾ 

না এটা হতে পারেনা। এটা তো তার একটি উক্তিমাত্র। তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (সূরা মুমিন)


আল্লাহ তা'লা আরও বলেন;

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ

মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই অবশ্যই আসবে, যা থেকে তুমি পালাচ্ছিলে।(সুরা ক্বফ)

﴿قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ﴾ 

আপনি বলুন; যেই  মৃত্যু থেকে তোমরা পালায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবেই। (সূরা জুমআ'হ)


💥শেষ কথা


আমরা কেন মৃত্যুকে ভয় পাই?


এর উত্তরঃ কারণ তোমরা দুনিয়াকে গ্রহণ  করেছ আর আখেরাতকে প্রত্যাখ্যান করেছ।


যে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করবে সে আখেরাতের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবে।

فاكثروا من ذكر هادم اللذات

“তোমরা সকল স্বাদ কর্তনকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো। আল্লাহ তাআ'লা যে আমাদের বেশি বেশি নেক কাজ করার তাওফিক দান করেন।

Sunday, August 22, 2021

হিফয করার ১ম কায়দা

হিফয করার ১ম কায়দা


খনিয়ত আর আল্লাহর প্রতি রুজু হতে নিষ্ঠাবান হওয়া, সদিচ্ছা, প্রং একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হিফয করা। সর হল তােমার ইলম হাসিল করার পথে সামর্থ লাভের রহস্য মূল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন   قل ائى أمرت أن أعبد الله مخلصا له الدين 'বল, দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য খালেস করে তাঁর ইবাদত করতে আমি অবশ্যই নির্দেশিত হয়েছি।' (যুমার ও ১১)। অতএব, যে কুরআন হিফয করবে ‘হাফিয' বলে ডাকা হবে বলে অথবা করআনের হাফিয বলে সুনাম অর্জন ও লােক দেখানাে মনােভাব নিয়ে সে। কোনরূপ প্রতিদান পাবেনা, পাবেনা সাওয়াব বরং গুনাহগার হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন ও কিয়ামতের দিন। সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তির বিচার অনুষ্ঠিত হবে। তিনি তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন, যে ইলম শিখেছে এবং শিক্ষা দিয়েছে কুরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে। তাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নানাবিধ অনুগ্রহের কথা অবগত করবেন। সে তা অবগত হবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন। ৪ তাহলে তুমি তা কি কাজে লাগিয়েছ? লােকটি বলবে আপনার ব্যাপারে ইলম শিখেছি। আর লােকজনকে তা শিখিয়েছি। আর কুরআন পড়েছি। আল্লাহ তাআলা বলবেন ও মিথ্যা বলেছ। বস্তুতঃ তােমাকে “কারী” বলা হবে বলে কুরআন পড়েছিলে। তােমাকে তাে তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার। ব্যাপারে হুকুম দেয়া হবে আর তাকে মুখমন্ডলে উপুড় করে টেনে নেয়া হবে, অবশেষে জাহান্নামের আগুনে ফেলে দেয়া হবে । (সহীহ মুসলিম শরীফ ও ৬৪ ৪৭) আলী ইবনে মাদীনী বলেছেন ঃ আমি যখন পাঠশেষে সুফয়ান সাউরীর নিকট হতে বিদায় নেই তিনি আমাকে বললেন লক্ষ্যকর, এ ব্যাপরে তুমাকে পরীক্ষায় ফেলা হবে। লােকজন তােমার মুখাপেক্ষী ত তুমি আল্লাহকে ভয় করবে। তােমার নিয়ত যেন কুরআনের থাকে। (আল জামিউ লিআখলাকির রাবীওয়া আদাবিসসামি’১০. আর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন ? করআনের ব্যাপারে বিশুদ্ধ إنما الأعمال بالنيات নিশ্চয় আমল সমূহের মূল্যায়ন হয় নিয়তের কারণে। (বুখারী-১৪ বাউল ওহী)। রে ছাত্র যখন আল্লাহ তাআলার কুরআন হিফয করে তখন সে তার গভীরে হিফয করার সময় মহান সৌভাগ্য অনুভব করে। যার সময়, পারে না দুনিয়ার কোন সৌভাগ্যই। তা এমন সৌভাগ্য যার সামনে যাত ক্লেশ হেয় মনে হবে। আর ছাত্রের দৃষ্টি নিয়ত বিশুদ্ধ করনের প্রতি ফিলিত আনার ব্যাপারে আর আল্লাহ তাআলার প্রতি রুজু হতে সদিচ্ছা সৃষ্টির ক্ষেতে উস্তাদের ভূমিকা অপরিসীম যা বলার অপেক্ষা রাখে না।


আপনি কিভাবে হিফয করবেন প্রথম অধ্যায়।

আপনি কিভাবে হিফয করবেন প্রথম অধ্যায়।


সাধারণ বিধিবিধান ও কুরআনুল কারীম | হিফয করার মৌলিক কায়দা কানুন কুরআনুল কারীম হিফয করার কাজে উৎসাহী পাঠকের জন্য আবশ্যকীয় মৌলিক কায়দা কানুন আমরা এ অধ্যায়ে আলােচনা করব। অতঃপর তার পেছনে বর্ণনা করব একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় যাতে থাকবে কুরআন হিফযের জন্য প্রয়ােজনীয় বাস্তব পন্থা ইনশাআল্লাহ তা'আলা। 

১ম কায়দাঃ খালিস নিয়ত, আল্লাহর তরফ হতে বিজয় ও সমর্থ হওয়ার রহস্য।

২য় কায়দাঃ বাল্যকালে হিফয করা পাথরের উপর অংকন করার ন্যায়। 

৩য় কায়দাঃ ও হিফয করার সময় নির্ণয় ।

৪র্থ কায়দাঃ ও হিফয করার জন্য স্থান নির্ণয়। ৫ম কায়দাঃ তাজভীদ অনুসরণে কুরআন পাঠ, সুর এবং সুর করে কুরআন তিলাওয়াত।

৬ষ্ট কায়দাঃ একই ছাপার কুরআন থেকে হিফয করবে।

৭ম কায়দাঃ ও হিফয করার আগে কুরআন সহীহ করে পাঠ করা শিখতে হবে। 

৮ম কায়দাঃ সংযােগ রক্ষা ও পরবর্তী আয়াতের প্রথম অংশ বিগত আয়াতের শেষাংশের সাথে যুক্ত করে পাঠ করা। এ পদ্ধতি হিফযকে সংযুক্ত করে দৃঢ় ভাবে। 

৯ম কায়দাঃ ও বারবার পুনরাবৃত্তি করা। এ পন্থা নতুন হিফযকে ছুটে যাওয়া এবং পালিয়ে যাওয়া হতে রক্ষা করে। 

১০ম কায়দাঃ ও দৈনিক নিয়মিত হিফয, বিচ্ছিন্ন হিফয অপেক্ষা উত্তম। 

১১তম কায়দাঃ ও ধীরস্থির হিফয, তাড়াতাড়ি হিফয করা হতে উত্তম যা। হারিয়ে যায়। 

 ১২ ম কায়দাঃ ও মুতাশাবিহাতের প্রতি লক্ষ্য রাখলে হিফযে গােল হয়না। 

১৩ তম কায়দাঃ ও হিফয করার সময় আয়াতের প্রতি লক্ষ্য নিবদ্ধ বা হবে। তাহলে আয়াত গুলাে স্মরণ শক্তিতে পাকাপাকি বসে যাবে। 

১৪ তম কায়দাঃ ও অবধারিত ভাবে আল্লাহর হুকুম পালনে লেগে থাকলে হবে, পাপ কাজ তরক কতে হবে। 

১৫ তম কায়দাঃ ও নিয়মিত পুণরাবৃত্তি হিফকৃত অংশ যেহেনে বসিয়ে দেয়।

১৬ তম কায়দাঃ কুরআন হিফয করার প্রতি প্রবল প্রেরণা এবং ব্যক্তিগত আগ্রহ থাকতে হবে। 

১৮ তম কায়দাঃ কুরআন হিফয করার জন্য আল্লাহর নিকট কাতর চিত্তে দোয়া চাওয়া তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াশীল একটি অংশ।