Wednesday, August 25, 2021

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

 



ইবনে ইসহাক ( রহঃ ) বর্ণনা করিয়াছেন যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খাদীজা ( রাঃ ) নামায পড়িতেছিলেন । এমন সময় হযরত আলী ( রাঃ ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন ,হে মুহাম্মদ , ইহা কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , ‘ ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন । আমি তােমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি , যাঁহার কোন অংশীদার নাই ; তাঁহার এবাদত কর ও লা - ত , ওয্যার এবাদতকে অস্বীকার কর । হযরত আলী ( রাঃ ) বলিলেন , ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই । সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পছন্দ করিলেন না যে , দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ হইতে প্রকাশ্য ঘােষণার পূর্বে তাহা ফাস হইয়া যাক । অতএব তিনি বলিলেন , হে আলী , যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ । হযরত আলী ( রাঃ ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন । তিনি সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন , হে মুহাম্মাদ , গতকল্য আমাকে কি বলিয়াছিলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , সাক্ষ্য দাও যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নাই , তিনি একা , তাঁহার কোন অংশীদার নাই ; আর লাত ও ওয্যাকে অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর । সুতরাং হযরত আলী ( রাঃ ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন । তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গােপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গােপন রাখিলেন , প্রকাশ করিলেন না । হাব্বাহ ওরানী ( রহঃ ) বলেন , আমি হযরত আলী ( রাঃ ) কে একবার মিম্বারে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে , এরূপ আর কখনও দেখি নাই । হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল । অতঃপর তিনি ( হাসির কারণ স্বরূপ ) বলিলেন , আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল । একদিন আমি ‘ বাতনে নাখলা ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত নামায পড়িতেছিলাম । এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , ভাতিজা , তােমরা কি করিতেছ ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তিনি বলিলেন , তােমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই , তবে ( সেজদার সময় ) আপন নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানাে আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না । হযরত আলী ( রাঃ ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন । তারপর বলিলেন , আয় আল্লাহ , আপনার নবী ব্যতীত এই উম্মাতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই । এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন , অন্যান্য লােকদের অপেক্ষা সাত বৎসর পূর্বে আমি নামায পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি । ( Islamic website ) 

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

 


আতা ইবনে ইয়াসার ( রহঃ ) বলেন , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর । ইবনে আস ( রাঃ ) এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম , তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল গুণাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন । তিনি বলিলেন , অবশ্যই , খােদার কসম তাঁহার যে সকল গুণাবলী কোরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাওরাতেও তাহাই বর্ণিত হইয়াছে । যেমন — হে নবী , আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী ও উম্মীদের ( অর্থাৎ আরবদের ) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি । আপনি আমার বান্দা ও রাসূল , আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি । তিনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন , বাজারে শােরগােলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ ও ক্ষমা করিয়া দেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষণ না মানুষ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়িয়া বক্ৰদ্বীনকে সােজা করিয়া লইবে । ( অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাঁকাপথে চলিয়াছে উহা । ছাড়িয়া সেরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সােজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে । ) তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধীর কান এবং রুদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন । ( আহমাদ ) অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে , আল্লাহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্ৰদ্বীনকে সােজা না করিয়া তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না । অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ ( রহঃ ) এরূপ উল্লেখ

 করিয়াছেন যে , আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাউদ ( আঃ ) এর উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন “ হে দাউদ , তােমার পর অতিসত্বর এক নবী আসিবেন , যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে , তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যেদ হইবেন । আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায় হইব , আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না । আমি তাঁহার অগ্র - পশ্চাতের সকল ভুল - ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি । তাঁহার উম্মাত আমার রহমতপ্রাপ্ত , আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐসকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী ও রাসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি । অতএব তাহারা কেয়ামতের দিন আমার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হইবে যে , তাহাদের নূর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে । ” এইরূপে অনেক কথা আলােচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন , “ হে দাউদ , আমি মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাতকে সকল উম্মাতের উপর সম্মান দান করিয়াছি । ( বিদায়াহ ) সাঈদ ইবনে আবি হেলাল ( রহঃ ) হইতে বর্ণিত আছে যে ,হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) কে বলিলেন , আমাকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁহার উম্মাতের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন । তিনি বলিলেন , আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাবে ( অর্থাৎ তাওরাতে ) তাহাদের সম্পর্কে এরূপ পাইয়াছি , আহমাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা ভাল - মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে । প্রত্যেক উঁচু জায়গায় ( উঠিতে ) তাহারা আল্লাহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় ( নামিতে ) তাহারা সুবহানাল্লাহ পড়িবে । তাহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে - বাতাসে ধ্বনিত হইবে । পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাহাদের ( কোরআন পাঠের ) মৃদু গুঞ্জন ( শ্রুত ) হইবে । ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাহারা নামাযে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । নামাযের কাতারের ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে তাহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । যখন তাহার আল্লাহর রাহে জেহাদে বাহির হইবে তখন তাহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবে । আর যখন তাহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেন — বলিয়া হযরত কা'ব ( রহঃ ) দুইহাত প্রসারিত করিয়া দেখাইলেন — যেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে । তাহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না । ( আবু নুআঈম ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) হইতে অনুরূপ এক রেওয়ায়াতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে , তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উচুস্থানে আল্লাহু আকবার বুলিৰে । ( নামায ইত্যাদি এবাদতের সময় নির্ধারণের জন্য ) সূর্যের খেয়াল রাখিবে । ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করিবে । কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গী বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ ধৌত করিবে ।

Tuesday, August 24, 2021

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি  দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

 



সিজদারত অবস্থায় কোন এক মুহুর্তের জন্য হলেও এক পায়ের কিছু অংশ জমিনে থাকা জরুরী। আর যদি পূর্ণ সিজদায় দুইও পা জমিন থেকে আলাদা থাকে অর্থাৎ, সম্পূর্ণ সিজদার মধ্যে কিছুক্ষণের জন্যও পায়ের কিছু অংশ জমিনে লাগে নাই তাহলে সিজদাহ্ সহীহ না হওয়ার কারণে নামায হবে না। সেই নামায আবার পড়তে হবে।

আর যদি সিজদারত অবস্থায় আঙ্গুল কিছু সময়ের জন্য জমিন থেকে উঠে যায় এবং উঠার পর আবার সাথে সাথে জমিনের সাথে মিলিয়ে নেয়, তাহলে নামায ভঙ্গ হবে না। তবে মাকরূহ হবে। কারণ, পূর্ণ সময় দুই পা জমিনে রাখা এবং কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাতে মু‘আক্কাদা। [প্রমাণঃ দুররে মুখতার ১:৪৪৭  ফাতাওয়া তাতার খানিয়া ১:৫০৬  হালাবী কবীর ১:৬৮৫ ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪:৩৫ আহসানুল ফাতাওয়া ৩:৩৯৮

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

 


১. একসময় তাওবা করে নেব ,এই চিন্তা করে যারা গুনাহ করে

২. জ্ঞান অর্জন করেও এই জ্ঞানের প্রয়োগ না করা অন্য কে এই জ্ঞানের শিক্ষা না দেয়া 

৩. নিষ্ঠাবিহীন আমল 

৪. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে তাঁর দেওয়া রিযিক ভোগ করা

৫. আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত ফয়সালায় (অর্থাৎ ভালো মন্দ তাকদীরের ওপর) সন্তুষ্ট না হওয়া 

৬. মৃতকে ব্যাক্তিকে কবর দিয়েও কোনো শিক্ষা না নেওয়া। 

Monday, August 23, 2021

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত



🔳 প্রথম ধাপের নাম ইয়াউমুল মাউত!


এই দিনেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, জীবন ফুরিয়ে যাবে। আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করবেন জমিনে গিয়ে জান কবজ করে নিয়ে আসার জন্য ।বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ এই দিনের কথা  জানেনা। যে দিন তার জান কবজ করা হবে  সেইদিন ও সে জানবে না আজ তার জান কবজ করার দিন। মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি না করা সত্বেও শরীরে কিছু পরিবতর্ন অনুভব করবে। ইমানদারের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হবে, আর পাপিষ্ঠদের বুকে কষ্ট চাপ অনুভব করবে। এই সময় শয়তান এবং জীন ফেরেশতাদের নামতে দেখবে। কিন্তু আমরা কেউ তাদের দেখবোনা। এই বিষয়টি  কোরআনে আছে

﴿وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ..﴾

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যেদিন তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে আল্লাহর দরবারে । অতপরঃ প্রতিটি নফসকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে তার কর্মফল। (সূরা বাক্বারা)


🔳 এরপর আসবে দ্বিতীয় ধাপ!


এটা হচ্ছে ধীরেধীরে জান কবজ করার পালা। এই ধাপে মানুষের রুহ পায়ের পাতা থেকে শুরু করে গোছা, হাটু,পেট,নাভি ও বুকের উপর হয়ে মানুষ দেহের "তারাক্বী" নামক জায়গায় পৌছে যায়। এই সময় মানুষ  অস্থিরতা অনুভব করেন। এবং একধরণের অসহনীয় বুুকে চাপ অনুভব করবেন। তখনও তিনি জানতে পারবেন না যে তার জান কবজ করা হচ্ছে ।


🔳 তারপর শুরু হয় তৃতীয় ধাপ!


এই ধাপের নাম " তারাক্বী " কোরআনে এই স্তরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে ;


﴿كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ  وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ  وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ  وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ 

﴾ (سورة القیامة

‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে। এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে’।পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে। ( সূরা কিয়ামাহ )


তারাক্বী বলা হয় কণ্ঠনালিরর নিচে ২ কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়কে। "কে ঝাড়বে" অর্থাৎ আত্মিয়-স্বজনদের কেউ কেউ বলবে : ডাক্তার ডাকি, অন্যজন বলবে ইমারজেন্সিতে কল করি, আবার কেউ বলবে কোরআন পড়ে ফু দেই। এই অবস্থার মধ্যে ও মানুষ জীবনে ফিরে আসার কথা চিন্তা করতে থাকবে । সে বিশ্বাসই করতে চাবেনা যে রুহু তার দেহ ত্যাগ করছে! (وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ সে মনে করবে,বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে ) অর্থাৎ সে এখনো মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত নয়।সে বাচার জন্য অনেক চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু আল্লাহ তা'লা বলেন :(وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ) পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে ) 

অর্থাৎ মৃত্যুর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত হয়েগেছে । রুহু গোছাদ্বয় থেকে বেরিয়ে গেছে।সে আর পা নাড়াইতে চাইলেও পা নাড়াতে পারবেনা।এবং রুহু শরীর থেকে বের হয়ে তারাক্বীতে পৌছে গেছে।

("كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ")

 ‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে!


🔳 অতঃপর আসবে চতুর্থ ধাপ। এই ধাপের নাম হুলক্বুউম :


 মৃত্যুর এটাই শেষ স্তর এবং মানুষের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের অনেক কষ্টদায়ক কঠিন স্তর। ঠিক এই সময় তার চোখের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে।এবং সে তার চারপাশের ফেরেশতাদের দেখতে পাবে। এখান থেকেই আখেরাত দর্শনের স্তর শুরু হবে।

فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ ﴾ ( سورة - ق)

আমি তোমার সামনে থেকে পরদা সরিয়ে দিয়েছি, এখন তোমার দৃষ্টি প্রখর। (সূরা ক্বফ)


এই স্তরকে হুলক্বুউম নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর কালামের কারনে :

{ فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُوم  وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ  وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ }

প্রান যখন কণ্ঠাগত হয় তখন তোমরা তাকিয়ে থাক। আমি তোমাদের চেয়ে তার নিকটবর্তি। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা। (সূরা ওয়াকিয়াহ )


ُআল্লাহ তার পাশের উপস্থিত মানুষদের কে সম্বোধন করে বলছেন ; তোমরা যেখানে আছো সেও সেখানেই আছে ।সে যা দেখতে পারতেছে তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। সে ইমানদার হলে আল্লাহ তাআলার রহমত দেখবে এবং যদি পাপিষ্ঠ হয়  আল্লাহর আজাব এবং গজব দেখছে। এজন্যই আমরা তাকে দেখি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে।

وَنَحْن أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ

 অর্থাৎ আমি তোমাদের তার অধিক নিকটতর কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না । মানুষের জান কবজ এর সময়টা জীবনের সবথেকে কষ্টদায়ক কঠিন মুহূর্ত। তখন সে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুতি ও ভীতি দেখতে পায়। ফেরেশতাদের দেখতে পায়। তার জীবনে যত আমল করেছে তা চোখের সামনে তুলেধরা হয়ে থাকে। আর এই সময় মৃত্যুর ফেতনা ঘটে যায়। শয়তান এই ফেতনায় প্রবেশ করে এবং বিশ্বাসে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ ও নবীর ব্যাপারে,দ্বীনের ব্যাপারে ও কোরআন হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে তার অন্তরে। এবং শয়তান তার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যেন সে বে ঈমান হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। এইসময় শয়তান নিশ্চিত হয়ে যায় যে এটা এই মানুষটির শেষ সময় এবং মালাকুল মাউত তার নিকটবর্তী। এজন্যই কোরআন আমাদের মৃত্যুর ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে বলছে :

﴿وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ(۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ﴾ (سورة المؤمنون).

আপনি বলুন ;হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি শয়তান থেকে। এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি তাদের উপস্থিতি থেকে। (সূরা মুমিন)

তুমি যদি সঠিক পথে তোমার জীবন পরিচালিত করো, এবং যদি অন্তরে আল্লাহ তার রাসুল এর  প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তুমি এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে মুমিন হয়ে বের হবে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে শয়তান তার কোন একজন নিকটাত্মীয়ের আকৃতিতে উপস্থিত হবে যিনি আগেই মারা গেছেন। সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলবে ; আমি তোমার পূর্বে মারা গিয়েছি । ইসলাম সত্য ধর্ম নয় এবং নবী সত্য দ্বীন নিয়ে আসেননি। এবং তোমাকে বলবে; তুমি সবকিছু অস্বীকার করো।

এই পরিস্থিতির কথা আল্লাহ তাআ'লা  কোরআনে বর্ণনা করেন;

﴿كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ﴾  ١٦).

তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান যখন সে মানুষকে বে ইমান করে পেলবে। যখন মানুষ শয়তানের কথায় কুফরি করবে তখন শয়তান তুুমাকে বলবে তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই ।আমি আল্লাহকে ভয় করি। (সূরা হাশর)

🔳 এরপর পঞ্চম ধাপ শুরু হবে !

এই সময় আজরাইল আলাইহিস সালাম প্রবেশ করবেন। এই সময় মানুষ বুঝতে পারবে সেকি জান্নাতি না জাহান্নামী। সে তার আমলনামা দেখবে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্তর নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। বিশেষভাবে যারা বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা না করেই আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন;:﴿وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا﴾ 

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা নির্মমভাবে(রুহ)  টেনে বের করে।(সূরা নাযিয়াত)

জাহান্নামে একদল ফেরেশতা থাকবে যারা আগুনের কাফন প্রস্তুত করে এবং খুব নির্দয়ভাবে পাপীষ্ট ব্যক্তির রুহ কবজ করে। অন্য আয়াতে এই কঠিন পরিস্থিতির চিত্র বর্ণিত হয়েছে ;

﴿فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ﴾

ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমন্ডল এবং পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের রুহ হরণ করবে তখন তাদের কী দশা হবে???(সূরা মোহাম্মদ)

🔳 এই ধাপের পর শুরু হবে ষষ্ঠ ধাপ!


এই ধাপে মানুষের রুহ প্রস্তুত হয়ে তারাক্বীর উপর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্তরে  পৌঁছে যাবে। এবং রুহ বের হওয়ার জন্য এবং আজরাইল আলাইহিস সালাম এর নিকট আত্মসমর্পণের জন্য নাকে মুখে অবস্থান করবে। বান্দা যদি গুনাহগার হয় তখন আজরাইল তাকে বলবে;হে নিকৃষ্ট আত্মা! তুই আগুন ও জাহান্নামের এবং ক্রোধান্বিত ও পপ্রতিশোধপরায়ন রবের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আস। তখন তার আভ্যন্তরীণ চেহারা কালো হয়ে যাবে। এবং চিৎকার করে বলবে ;

 ﴿رَبِّ ارْجِعُونِ. لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ﴾

হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠান যাতে আমি সৎকাজ করি যা আমি পূর্বে করিনি। (সূরা মুমিন)

কারন আমি নেককাজ করতে পারিনি।তখন সে শুনতে পাবে;


﴿كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ﴾ 

না এটা হতে পারেনা। এটা তো তার একটি উক্তিমাত্র। তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (সূরা মুমিন)


আল্লাহ তা'লা আরও বলেন;

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ

মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই অবশ্যই আসবে, যা থেকে তুমি পালাচ্ছিলে।(সুরা ক্বফ)

﴿قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ﴾ 

আপনি বলুন; যেই  মৃত্যু থেকে তোমরা পালায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবেই। (সূরা জুমআ'হ)


💥শেষ কথা


আমরা কেন মৃত্যুকে ভয় পাই?


এর উত্তরঃ কারণ তোমরা দুনিয়াকে গ্রহণ  করেছ আর আখেরাতকে প্রত্যাখ্যান করেছ।


যে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করবে সে আখেরাতের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবে।

فاكثروا من ذكر هادم اللذات

“তোমরা সকল স্বাদ কর্তনকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো। আল্লাহ তাআ'লা যে আমাদের বেশি বেশি নেক কাজ করার তাওফিক দান করেন।

Sunday, August 22, 2021

হিফয করার ১ম কায়দা

হিফয করার ১ম কায়দা


খনিয়ত আর আল্লাহর প্রতি রুজু হতে নিষ্ঠাবান হওয়া, সদিচ্ছা, প্রং একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হিফয করা। সর হল তােমার ইলম হাসিল করার পথে সামর্থ লাভের রহস্য মূল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন   قل ائى أمرت أن أعبد الله مخلصا له الدين 'বল, দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য খালেস করে তাঁর ইবাদত করতে আমি অবশ্যই নির্দেশিত হয়েছি।' (যুমার ও ১১)। অতএব, যে কুরআন হিফয করবে ‘হাফিয' বলে ডাকা হবে বলে অথবা করআনের হাফিয বলে সুনাম অর্জন ও লােক দেখানাে মনােভাব নিয়ে সে। কোনরূপ প্রতিদান পাবেনা, পাবেনা সাওয়াব বরং গুনাহগার হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন ও কিয়ামতের দিন। সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তির বিচার অনুষ্ঠিত হবে। তিনি তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন, যে ইলম শিখেছে এবং শিক্ষা দিয়েছে কুরআন পড়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে। তাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নানাবিধ অনুগ্রহের কথা অবগত করবেন। সে তা অবগত হবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন। ৪ তাহলে তুমি তা কি কাজে লাগিয়েছ? লােকটি বলবে আপনার ব্যাপারে ইলম শিখেছি। আর লােকজনকে তা শিখিয়েছি। আর কুরআন পড়েছি। আল্লাহ তাআলা বলবেন ও মিথ্যা বলেছ। বস্তুতঃ তােমাকে “কারী” বলা হবে বলে কুরআন পড়েছিলে। তােমাকে তাে তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার। ব্যাপারে হুকুম দেয়া হবে আর তাকে মুখমন্ডলে উপুড় করে টেনে নেয়া হবে, অবশেষে জাহান্নামের আগুনে ফেলে দেয়া হবে । (সহীহ মুসলিম শরীফ ও ৬৪ ৪৭) আলী ইবনে মাদীনী বলেছেন ঃ আমি যখন পাঠশেষে সুফয়ান সাউরীর নিকট হতে বিদায় নেই তিনি আমাকে বললেন লক্ষ্যকর, এ ব্যাপরে তুমাকে পরীক্ষায় ফেলা হবে। লােকজন তােমার মুখাপেক্ষী ত তুমি আল্লাহকে ভয় করবে। তােমার নিয়ত যেন কুরআনের থাকে। (আল জামিউ লিআখলাকির রাবীওয়া আদাবিসসামি’১০. আর নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন ? করআনের ব্যাপারে বিশুদ্ধ إنما الأعمال بالنيات নিশ্চয় আমল সমূহের মূল্যায়ন হয় নিয়তের কারণে। (বুখারী-১৪ বাউল ওহী)। রে ছাত্র যখন আল্লাহ তাআলার কুরআন হিফয করে তখন সে তার গভীরে হিফয করার সময় মহান সৌভাগ্য অনুভব করে। যার সময়, পারে না দুনিয়ার কোন সৌভাগ্যই। তা এমন সৌভাগ্য যার সামনে যাত ক্লেশ হেয় মনে হবে। আর ছাত্রের দৃষ্টি নিয়ত বিশুদ্ধ করনের প্রতি ফিলিত আনার ব্যাপারে আর আল্লাহ তাআলার প্রতি রুজু হতে সদিচ্ছা সৃষ্টির ক্ষেতে উস্তাদের ভূমিকা অপরিসীম যা বলার অপেক্ষা রাখে না।


আপনি কিভাবে হিফয করবেন প্রথম অধ্যায়।

আপনি কিভাবে হিফয করবেন প্রথম অধ্যায়।


সাধারণ বিধিবিধান ও কুরআনুল কারীম | হিফয করার মৌলিক কায়দা কানুন কুরআনুল কারীম হিফয করার কাজে উৎসাহী পাঠকের জন্য আবশ্যকীয় মৌলিক কায়দা কানুন আমরা এ অধ্যায়ে আলােচনা করব। অতঃপর তার পেছনে বর্ণনা করব একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় যাতে থাকবে কুরআন হিফযের জন্য প্রয়ােজনীয় বাস্তব পন্থা ইনশাআল্লাহ তা'আলা। 

১ম কায়দাঃ খালিস নিয়ত, আল্লাহর তরফ হতে বিজয় ও সমর্থ হওয়ার রহস্য।

২য় কায়দাঃ বাল্যকালে হিফয করা পাথরের উপর অংকন করার ন্যায়। 

৩য় কায়দাঃ ও হিফয করার সময় নির্ণয় ।

৪র্থ কায়দাঃ ও হিফয করার জন্য স্থান নির্ণয়। ৫ম কায়দাঃ তাজভীদ অনুসরণে কুরআন পাঠ, সুর এবং সুর করে কুরআন তিলাওয়াত।

৬ষ্ট কায়দাঃ একই ছাপার কুরআন থেকে হিফয করবে।

৭ম কায়দাঃ ও হিফয করার আগে কুরআন সহীহ করে পাঠ করা শিখতে হবে। 

৮ম কায়দাঃ সংযােগ রক্ষা ও পরবর্তী আয়াতের প্রথম অংশ বিগত আয়াতের শেষাংশের সাথে যুক্ত করে পাঠ করা। এ পদ্ধতি হিফযকে সংযুক্ত করে দৃঢ় ভাবে। 

৯ম কায়দাঃ ও বারবার পুনরাবৃত্তি করা। এ পন্থা নতুন হিফযকে ছুটে যাওয়া এবং পালিয়ে যাওয়া হতে রক্ষা করে। 

১০ম কায়দাঃ ও দৈনিক নিয়মিত হিফয, বিচ্ছিন্ন হিফয অপেক্ষা উত্তম। 

১১তম কায়দাঃ ও ধীরস্থির হিফয, তাড়াতাড়ি হিফয করা হতে উত্তম যা। হারিয়ে যায়। 

 ১২ ম কায়দাঃ ও মুতাশাবিহাতের প্রতি লক্ষ্য রাখলে হিফযে গােল হয়না। 

১৩ তম কায়দাঃ ও হিফয করার সময় আয়াতের প্রতি লক্ষ্য নিবদ্ধ বা হবে। তাহলে আয়াত গুলাে স্মরণ শক্তিতে পাকাপাকি বসে যাবে। 

১৪ তম কায়দাঃ ও অবধারিত ভাবে আল্লাহর হুকুম পালনে লেগে থাকলে হবে, পাপ কাজ তরক কতে হবে। 

১৫ তম কায়দাঃ ও নিয়মিত পুণরাবৃত্তি হিফকৃত অংশ যেহেনে বসিয়ে দেয়।

১৬ তম কায়দাঃ কুরআন হিফয করার প্রতি প্রবল প্রেরণা এবং ব্যক্তিগত আগ্রহ থাকতে হবে। 

১৮ তম কায়দাঃ কুরআন হিফয করার জন্য আল্লাহর নিকট কাতর চিত্তে দোয়া চাওয়া তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াশীল একটি অংশ।

 

Friday, August 20, 2021

Thursday, August 19, 2021

হিফজ ছাত্রদের অনলাইনে ক্লাস চলছে ( islamicweb20)

হিফজ ছাত্রদের অনলাইনে ক্লাস চলছে ( islamicweb20)

 

                                                                     Islamic Website 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন




করােনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারের ঘােষণা অনুযায়ী দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেয়া হয়েছে । আলহামদুলিল্লাহ আমাদের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস যথারিতি চলছে , যদিও অনলাইন ক্লাস কখনও ক্লাসরুমের বিকল্প হতে পারে না । কিন্তু এর মধ্যে থেকেই নতুন কিছু ভাবার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা , প্রিয় শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক ক্লাসের মত একের পর এক পড়া শুনাচ্ছে । আল্লাহ তা'আলা যেন সকলকে যমানার শ্রেষ্ঠ হাফিজ এবং আলিম । হিসেবে কবুল করে নেন ।

আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় ( islamicweb20)

আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় ( islamicweb20)


 আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় বলতে আল্লাহর নিকটবর্তী, কাছাকাছি, সান্নিধ্য, ঘনিষ্ঠতা ইত্যাদি অর্জনের পথ বা রাস্তা বুঝায়। আল্লাহর নৈকট্য লাভ মানেই তাঁরই মেহমান হিসাবে গণ্য হওয়া অর্থাৎ জান্নাতবাসী বলে সফলতা অর্জন করা। আর এ সফলতা লাভে সবারই থাকে কাম্য তবে অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু সঠিক পথে জীবন-যাপন করে যাচ্ছি সেটা হলাে ভাবার বিষয়। স্বাভাবিক রিতীতে এবং বাস্তবেও সত্য যে, কোন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দল ও দেশ নির্বিশেষে কেউ কারাে ঘনিষ্ঠতা, সান্নিধ্য বা স্বার্থ লাভে একে অন্যের স্বপক্ষে বা মতানুসারী হয়ে চলতে হয়। আর চলাতে বিপক্ষে বা মতানৈক্য দেখা দিলে । বহিষ্কার, বিচ্ছেদ অর্থাৎ স্বার্থ লাভে বঞ্চিত থাকতে হয়। এছাড়া আরাে দেখা যায়। যে, বাস্তব জীবনে প্রতিটি কাজ-কর্মে নীতিমালা রয়েছে, যা লংঘন করলে শান্তি বা সফলতার বদলে অশান্তি ও কুফলতা দেখা দেয়। যেমন কোন অধীনস্ত কর্মচারী তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের দেওয়া বিধিমালা লংঘন করলে অথবা কোন রােগী তার ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ সেবনসূচীতে নির্দেশ-নিতী অমান্য করলে ফল কি দাঁড়াবে? তা আমাদের বুঝার বাকী থাকে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতিপালক, স্রষ্টা ও মালিক হিসাবে তিনি সৃষ্টিকে চলার যে বিধিমালা বা জীবন বিধান দিয়েছেন, সেই পবিত্র জীবন সংবিধান লংঘন। করে চললে কুফলতা অর্থাৎ নৈকট্য লাভে ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই যে থাকবে না সেটাও আমাদের হৃদয়ংগম করে বুঝা উচিত। আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করে জীবন চলার সঠিক বিধান জ্ঞান-বিবেক-বুদ্ধি ও স্বাধীনতাসহ যাবতীয় নিয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। মানুষ যাতে নৈকট্য লাভে ব্যর্থ না হয় সেজন্য ইসলামকে মানুষের জীবন ব্যবস্থা হিসাবে পছন্দ করেছেন। আল্লাহপাক বলেন: “নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযােগ্য জীবন ব্যবস্থা।” (আল-ইমরান: ১৮) | অন্যত্র আরাে বলেন: “আজ তােমাদের জন্য তােমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তােমাদের উপর আমার প্রতিশ্রুত নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিলাম আর ইসলামকে তােমাদের দ্বীন হিসেবে মনােনীত করলাম।” (আল-মায়েদা: ৩) আল্লাহ তা'য়ালা মানুষের দ্বীনকে ইসলাম নামে পছন্দ ও মনােনীত করেছেন। ইসলামের শাব্দিক অর্থ হলাে শান্তি ও আত্মসমর্পণ । পারিভাষিক অর্থে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শান্তি লাভ করা। আর দ্বীন ইসলাম মানে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ইসলাম নামে যে জীবন বিধান রাসূল (সাঃ) এর নিকট পাঠানাে হয়েছে, আল্লাহর

নবী বিশ্বের মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও শান্তির জন্যে যে মহান ধর্ম করে গিয়েছেন তাকে ইসলাম ধর্ম বলে এবং ঐ ধর্মের অনুসারীকে মুসলমান বলা অথাৎ যে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সক রাসূল (সঃ)-কে আনুগত্য সহ তিনির উপর নাযিলকৃত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের লিঙ্গ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। শুধু মুখে ইসলাম, জাতে মুসলমান বললেই নৈকট্য অর্জন হয় না বরং ইসলামে দাখিল হতে হবে সম্পূর্ণরূপে। আল্লাহপাক বলেন- ত ঈমানদারগণ! তােমরা পূণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের চালচলন অনুসরত করাে না, কেননা শয়তান তােমাদের প্রকাশ্য দুষমন।” (আল-বাকারা: ২০৮)। অন্যত্র বলেন- “হে মুমিনগণ! যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে তােমরা আল্লাহকে ভয় কর, আর তােমরা অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মরিও না।” (আল-ইমরান: ১০২)। মানুষ আমরা সবাই পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে মহান আল্লাহ তায়ালাকে রব। (প্রতিপালক) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছি এবং আমরা যে এক আদম সন্তান হিসেবে। দুনিয়াতে বিচরণ করছি সেই কথাটুকু যদি আমাদের স্বরণে রেখে জীবন-যাপন করি। তাহলে দুনিয়াতে যেমন অন্যায়-অবিচার, যুলুম-নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণ, বেকারত্বদারিদ্রতা ইত্যাদি যাবতীয় থেকে বাঁচা যাবে, তেমনি সর্বকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভেও ধন্য হবে। পবিত্র কোরআনে রয়েছে আল্লাহর কি প্রয়ােজন তােমাদের অযথা শাস্তি দেবার, যদি তােমরা কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকো এবং ঈমানের নীতির উপর চলাে? আল্লাহ বড়ই পুরস্কার দানকারী ও সর্বজ্ঞ।” (আন-নিসা: ১৪৭) মানুষ যেহেতু মরণশীল এবং পরকালীন জীবনে আল্লাহর কাছেই ফিরতে। হবে সেহেতু মরনের আগেই আখেরাতের প্রস্তুতি অর্থাৎ প্রথমে কবর এবং পরে হাশর এ দুটি ঘাটে আল্লাহর নৈকট্য লাভে আমাদের কি কি প্রয়ােজন হবে, তা। কোরআন ও হাদীস থেকে সংগ্রহ করে দুনিয়াতেই আমল করে যেতে হবে। যেমন হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে, কবরে মানুষকে যে প্রশ্নগুলাে করা হবে তার প্রথমটি হলাে  ”মান রাব্বুকা? অর্থ- তােমার রব কে? দ্বিতীয়টি "মান দীনুকা? অর্থ- তােমার দ্বীন কি? তৃতীয়টি “মান নাবিয়ুকা?” অর্থ- তােমার নবী কে? যার উত্তর সঠিক হিসেবে প্রথমটা হবে “রাব্বি আল্লাহ” অর্থ- আমার রব আল্লাহ। দ্বিতীয়টা “দ্বীনীল ইসলাম” অর্থ- আমার দ্বীন ইসলাম। তৃতীয়টা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অর্থ- আমার নবী মুহাম্মদ (সঃ) বলতে পারলেই ৪র্থ প্রশ্ন আসবে তুমি কিভাবে জানলে? তখন উত্তরে বলবে “আমি আল্লাহর কিতাব অর্থাৎ কোরআন পড়ে জানতে পেরেছি। আর এটাই হবে বিরাট সফলতা বা নৈকট্যলাভ। তবে আমাদের অবশ্যই জানা থাকা দরকার যে, উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তরগুলাে শুধু মুখস্থ থাকলেই কঠিন সময়ে মুখ দিয়ে বাহির হবে না বরং বাস্তব জীবনে সর্বক্ষেত্রে আমল থাকলে সহজভাবে জবান দিয়ে সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হবে ।। এছাড়া হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে হাশরের ময়দানেও মানুষকে হতে হবে প্রশ্নের সম্মুখীন। সেখানে রয়েছে পাঁচটি প্রশ্ন, যার উত্তর না দিয়ে কেউই আখেরাতে। পার পাবেনা অর্থাৎ আদম সন্তানের পা মাটিতে লেগে থাকবে উত্তর না দেয়া পর্যন্ত। প্রশ্নগুলাে হচ্ছে

 ১) তােমার বয়স সীমা কিভাবে শেষ করে ফেলেছ?

 ২) তােমার যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছ? ৩) তােমার সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছ? ৪) উক্ত সম্পদ কোন কোন খাতে খরচ করেছ?

 ৫) যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছ তা দিয়ে কি কাজ করেছ? উল্লেখিত প্রশ্নগুলাের উত্তর আসলে সহজ নয় বরং কঠিন। তবে হায়াত থাকতে বাস্তব জীবনে যাবতীয় কর্মক্ষেত্রে প্রশ্নগুলাে সামনে রেখে জীবন-যাপন করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করা যেতে পারে। সুতরাং মা'বুদের সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে আমাদেরকে প্রথমেই জীবনযাপনের সঠিক পথ নির্ধারণ করতঃ তিনির দেওয়া জীবন ব্যবস্থা অর্থাৎ বিধানের সাথী বা অনুসারী হতে হবে। উক্ত বিধানকে বুঝার জন্যে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন সহ নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে সেই দিকে কাজে লাগানাের জন্য দায়িত্বশীল হতে হবে । ইসলামের যে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে সেগুলােকে যথাযথভাবে আমলে রূপান্তরিত করা লাগবে। অশান্তি থেকে মুক্তি লাভ পেতে তাওহীদ ভিত্তিক ইবাদত সহ মাবুদের কাছে ধর্ণা দিতে হবে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তিনির নৈকট্য লাভের পথ আমল করার তাওফিক কামনা করি ।

দোয়া আল্লাহর দরবারে করা অবশ্যই কর্তব্য ( islamicweb20)

দোয়া আল্লাহর দরবারে করা অবশ্যই কর্তব্য ( islamicweb20)


 নবী করীম (সঃ) দোয়াকে মুখখুল ইবাদাত অর্থাৎ ইবাদতের মূল বলেছেন। তাই মানুষের আত্ম সংশােধন ও মনকে যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে মুক্ত রেখে, আল্লাহভীতি ও সৎচরিত্রে ভূষিত হয়ে একমাত্র ভরসাস্থল আল্লাহর দরবারে খালেছদিলে দোয়া করাই কর্তব্য। মানুষের আবেদন ও প্রয়ােজন পূরণ করার যাবতীয় ক্ষমতা এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ, তিনি হলেন সারা বিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক। আল্লাহপাক বান্দার ডাকা ডাকি-দোয়া প্রার্থনা শুনেন। ও জবাব দেবার ক্ষমতা রাখেন অর্থাৎ তিনি ছাড়া বান্দার অন্তরের কাকুতি-মিনাত শােনার ও জবাব দেবার ক্ষমতা সৃষ্টির মধ্যে থাকতে পারে না। সেলক্ষ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের অবগতির জন্যে পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে উদাহরণ। স্বরূপ উল্লেখ করে দিয়েছেন। “একমাত্র আল্লাহকেই ডাকা সত্য ও উচিৎ। আল্লাহকে বাদ দিয়ে লােকেরা যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের প্রার্থনায় কোনাে সারাই দিতে পারে না। তাদেরকে ডাকা এমনই, যেমন কোনাে ব্যক্তি পানির দিকে হাত বাড়িয়ে তার কাছে আবেদন জানায় যে, তুমি আমার মুখে পৌছে যাও অথচ পানি তার মুখে পৌঁছিতে সক্ষম নয়। তেমনিভাবে কাফেরদের দোয়াও লক্ষ্য ভ্রষ্ট তীর ছাড়া আর কিছুই নয়।” (আর-রায়াদ: ১৪) মানুষের জ্ঞান-বিবেক খাটিয়ে বুঝা উচিৎ যে, আল্লাহ পাকের যেসমস্ত গুণাগুণ, মর্যাদা ও ক্ষমতা তার সৃষ্টির উপর রয়েছে, সেখানে সৃষ্ট হয়ে স্রষ্টার সমতুল্য কেহই থাকতে পারে না, এমনকি প্রার্থনা, ইবাদত উপাসনা লাভের অধিকারী বলে গন্য হয়না। এরপরেও যারা ক্ষমতাহীন সত্তার সামনে মাথানত করে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সাথে মনের বাসনা পূরণের আবেদন জানায়, তখন সে কিছুই পায়না বরং নিরাশ হতে হয়। তার কারণ হচ্ছে যে, একজন পরনির্ভরশীল অন্য একজন পরনির্ভরশীলকে যেমন দিতে পারেনা, তেমনি রক্ষা করতেও অক্ষম থাকে। মানুষের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার অন্যান্য সত্তার ইবাদাত উপাসনা করে এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে নানান দরখাস্ত পেশ করে বা ডাকে, তারা হলাে সবচেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত । আল্লাহপাক বলেন: “ঐ লােকের চেয়ে বেশী গোমরাহ (পথ) আর কে হতে পারে? যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নয়। এমনকি তাদেরকে যে ডাকা হয়েছে সে কথা তারা জানেই না। যখন সব মানুষকে সমবেত করা হবে তখন যারা তাদেরকে ডাকতো, তারা তাদের দুশমন হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে”। (আল-আহকাফ: ৫-৬) | আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসমস্ত লােক মন্দিরে মূর্তির সামনে ভক্তি সহকারে আবেদন জানায় এবং কেহ কেহ দরগাহ বা মাজারে গিয়ে সেখানে শায়িত ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে অথবা আশা পূরনের জন্যে দোয়া করে সেসব। লােক হলাে সবচেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট । এছাড়া দরগা মাজার ও মন্দির যে কোনাে জায়গায় গিয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে কিছু চাওয়া অর্থাৎ অভাব মােচনকারী, মনের। বাসনা পূরণকারী ইত্যাদি মনে করে যে সমস্ত আকুল আবেদন জানানাে হয়, সে সমস্ত দরখাস্তের জবাব দেওয়াতাে দূরের কথা বরং এসমস্ত তাদের কানেই পৌছে। । যার ফলে বিচারের দিন মানুষের এসমস্ত কর্মকান্ডের কথা অস্বীকার করে তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবেন। ৪8 19 21:08 প্রকৃতপক্ষে, মানুষের মনের আশা-আকাংখা দুঃখ বেদনা যাবতীয় ব্যাপারে দোয়া প্রার্থনা করা উচিৎ হবে সেই মহান শক্তিশালী সত্তার কাছে, যিনি হবেন। মানুষের মুনিব, মালিক, প্রতিপালক এবং সারা বিশ্বের ব্যবস্থাপক। এছাড়া। মানুষের ভাল-মন্দ, লাভ-ক্ষতি, তকদিরের প্রবর্তক, জীবন-মরণ ইত্যাদি যাবতীয়। সব কিছুর ক্ষমতা যার হাতে নিবদ্ধ, তিনি হলেন মহান আল্লাহ রাব্বল আলামীন। তিনি ছাড়া আর কোনাে মাবুদ নেই এবং তিনি হলেন চিরস্থায়ী সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা। তাছাড়া সমস্ত রত্মভান্ডারের চাবি সমূহ একমাত্র তাঁরই আয়ত্বাধীন । লে হিসেবে মানুষের ভরসাস্থল, দোয়া-প্রার্থনা ও সমস্ত ইবাদত উপসনা পাওয়ার। অধিকারী হবেন শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা । যার কোন শরীক নেই অর্থাৎ একক, অদ্বিতীয় ও স্বয়ং সম্পূর্ণ । পবিত্র কোরআনে ঘােষণা রয়েছে: “আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছুর হেফাজতকারী (রক্ষক)। আসমান ও জমিনের সকল ভান্তারের চাবিসমূহ তাঁরই কাছে। যারা আল্লাহর আয়াত সমূহের সাথে কুফরী করবে তারাই ঐসব লােক, যারা ক্ষতিগ্রস্ত।” (আয-যুমার: ৬২-৬৩) আল্লাহপাক আরাে বলেন: “তােমাদের রব বলেন, আমার কাছে দোয়া করাে, আমি কবুল করবাে। যারা অহংকার করে আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, তারা অচিরেই অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা-মু'মিন: ৬০)

আল্লাহপাক হলেন সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও অনগ্রহের অধিকারী । সে জন্য একমাত্র তারই কাছে দরখাস্ত পেশ করতে হবে। দোয়া হচ্ছে আল্লাহর রহমত লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং দাসত্ব, বন্দেগী ও আনুগত্যের নামান্তর। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দোয়া করে, তাদের উপর আল্লাহ খুশী হন। আর যারা দোর করেন, তারা আল্লাহর ধার ধারে না অর্থাৎ মুনিবের কাছে দাসত্বের স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা করে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর রাগ করেন। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনাে সত্তার কাছে দোয়া করে বা সাহায্যের আশায় ডাকে, তার নামে মানত করে অর্থাৎ যে সব বৈশিষ্ট ও গুণাবলী একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, সে সমস্ত এসব সত্তার মধ্যেও রয়েছে বলে বিশ্বাস করে তাদের গােলামীতে লিপ্ত থাকে, তারা সবই এক আল্লাহর গােলাম। তাই গােলাম হয়ে যে অন্য গােলামের সামনে আনুগত্য সহকারে সাহায্য চায়, সে আসলেই শিরক কর্মে লিপ্ত হয়। আর এসমস্ত মানুষের জন্যেই তাদের কর্মফল হিসেবে আল্লাহ পাক জাহান্নাম নির্দিষ্ট করে রেখেছেন ।। সুতরাং আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচতে হলে মানুষের শিরকমুক্ত ঈমান ও ইবাদাত হতে হবে এবং যাবতীয় প্রশংসা, মর্যাদা, গৌরব, ইবাদাত- উপসনা পাওয়ার অধিকারী হিসেবে একমাত্র আল্লাহকেই মেনে নিতে হবে। ইবাদাতের বেলায় আল্লাহর সাথে যেমন সম্পর্ক রয়েছে, তেমনিভাবে দোয়া প্রার্থনা অভাব প্রয়ােজন ও মনের বাসনা পূরনের ক্ষেত্রেও তিনির কাছে ধর্না দিয়ে মুনিব ও গােলামের সম্পর্ক বজায় রাখা লাগবে । সারকথা হচ্ছে, আমরা যেন ভুলে না যাই। সেই প্রতিজ্ঞা, যা প্রত্যেক নামাযের প্রতি রাকাতে নীরবে সরবে, নির্জনে প্রকাশ্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে আল্লাহর কাছে নিবেদন করে বলতে থাকি “আমরা কেবল তােমারই গােলামী করি এবং তােমারই কাছে সাহায্য কামনা করি। আল্লাহ ছাড়া নেই কোনাে সাহায্যকারী কথাটিও আমাদেরকে জানিয়েছেন সূরা আহযাবের ১৭নং আয়াতে, “বলাে! আল্লাহ তােমাদের ক্ষতি করতে ইচ্ছা করলে কে এমন আছে তা হতে রক্ষা করবে? বা তিনি অনুগ্রহ করতে চাইলে কে আছে বাঁধা দিতে? আল্লাহ ছাড়া ওরা পাবেনা কাউকে রক্ষক ও সাহায্যকারী।” অন্য আয়াতে রয়েছে: “আল্লাহ যদি তােমার উপর কোনাে কষ্ট দিতে চান তাহলে কেউ তা দূর করতে পারবেনা তিনি ছাড়া পক্ষান্তরে যদি তিনি তােমার কল্যাণ করতে চান তবে তিনির অনুগ্রহকে কেউ বাঁধা দিতে পারবে না।” (সূরা-ইউনুস: ১০৭)

নামাজ হলাে ঈমানের বাস্তব নিদর্শন ( islamicweb20)

নামাজ হলাে ঈমানের বাস্তব নিদর্শন ( islamicweb20)


ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে প্রথমটা হলাে ঈমান , আর ঈমানের পরিচয় ও প্রমাণে কাজ করে নামায, যার ফলেই ঈমানের পরে নামাযের স্থান । সঠিক জ্ঞানের সহিত বিবেক দ্বারা বুঝে - শুনে যেভাবে ঈমান আনার প্রয়ােজন হয় , তেমনিভাবে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নামায কায়েমের মাধ্যমে ঈমানের পরিচয় দিতে হয় । হাদীসে রয়েছে :“ মু'মিন বান্দা ( ঈমানদার ) ও কাফেরের ( বেঈমান ) মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায । ” ( মুসলিম ও আবু দাউদ ) এখন যে ব্যক্তি সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে ঈমানের ঘােষণা কবুল করবে , সে ব্যক্তি ঈমানদার মুসলমান বা মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে । তখনই তাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায কায়েমের নির্দেশটি পালন করতে হবে । নামায শব্দটি এসেছে ছালাত শব্দ থেকে । ছালাত মানে অগ্রসর ও নিকটবর্তী হওয়া অর্থাৎ আল্লাহর লক্ষ্য আরােপ করা , তার দিকে অগ্রসর বা একান্ত নিকটবর্তী হওয়া বুঝানাে হয় । আর নামায অর্থ হলাে দোয়া বা প্রার্থনা । সমস্ত ইবাদাতের মধ্যে নামায একটি ইবাদাত ; যা ইসলামের প্রথম ভিত্তি ঈমানের পরেই দ্বিতীয় ভিত্তি হিসেবে নামাযের স্থান । পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাকের ঘােষণা রয়েছে : “ নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ ! আমি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই । অতএব তুমি আমার দাসত্ব করাে এবং আমার স্মরণে নামায কায়েম করাে । " ( ত্বা - হা : ১৪ ) ইসলামের অন্যান্য তিনটি ভিত্তি যা রয়েছে , তা মেনে চলতে হয় শর্ত ও সময় সাপেক্ষে । যেমন যাকাত ফরয হয় যাকাতের ছাহেবে নেছাব হলে এবং নেছাবের বর্ষ পূর্ণ হলে । রােজা ফরয হয় রমযান মাস উপস্থিত হলে এবং হজ্জ ফরয হয় শক্তি ও আর্থিক সামর্থ থাকলে হজ্জ মাসে মানুষের জীবনে একবার । কিন্তু নামাযের নির্দেশ পালন করা এধরনের কোন শর্ত সাপেক্ষ নেই বরং প্রতি দিনই পাঁচটি সময় উপস্থিত হয় । তাই সময় মতাে প্রত্যেক কালেমা পাঠকারীকে আল্লাহপাকের নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামায অবশ্যই কায়েম করতে হবে , অন্যথায় ঈমান আনার প্রমাণ ব্যর্থ যাবে । কারণ নামাযই হচ্ছে ঈমান থাকা না থাকার প্রমাণ । আল্লাহতায়ালা বলেন : “ কিন্তু না সে সত্য মেনে নিলাে , না সালাত আদায় করলাে বরং সত্যকে মিথ্যা মনে করলাে এবং ফিরে গেলাে । ” ( আল - কিয়ামাহঃ ৩১-৩২ ) হাদীসে রয়েছে : “ যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করলাে , সে কুফরী করলাে । " ( তিরমিযি ) আসলে নামায বঞ্চিত লােক ঈমান থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে । নামায কায়েমের ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে যে সমস্ত নির্দেশ ও বাণী রয়েছে , তা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে সহজে বুঝা যায় যে , নামায কায়েম না করে কোন ব্যক্তি । ঈমানদার বা মুসলমান বলে দাবি করতে পারে না । ইসলামের যাবতীয় ফরয । নামায স্বয়ং আল্লাহপাকের আরশের সম্মুখে “ শবে মেরাজে ফরয় হয়েছে । সে । যেমন - রােজা , হজ্জ , যাকাত , প্রভৃতি ওহীর মাধ্যমে দুনিয়াতে ফরয হয়েছে , কিন্তু । লক্ষ্যেই অন্যান্য সকল ইবাদাত অপেক্ষা একমাত্র নামাযের প্রতিই সবচেয়ে বেশী । সার্বিক কল্যাণ লাভের জন্য এবং আল্লাহর আইন - বিধান পালন , প্রচার ও প্রসারের । গুরুত্ব , নির্দেশ ও তাগিদ এসেছে । তাছাড়া আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন । দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে সব গুণাবলী প্রয়ােজন , সেগুলাে আমাদের মধ্যে সৃষ্টি । করার জন্যেই এই নামাযের হুকুম বেশী রয়েছে । তাই ইচ্ছা করে নামায ছেড়ে । দেওয়ার অর্থ দাঁড়ায় এই যে , আল্লাহপাক আশি বারেরও বেশী যে নামাযের হুকুম । করেছেন আর আপনি তা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন , তারপরও আপনি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন । হয়তাে এই দাবিতে একটু আত্মপ্রসাদ লাভ করা যেতে পারে , কিন্তু জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোন উপায় থাকতে পারে না । আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : “ জান্নাতিরা অপরাধী লােকদেরকে জিজ্ঞাসা করবে কোন জিনিসটি তােমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে ? তারা বলবে আমরা সালাত আদায় করা লােকদের মধ্যে শামিল ছিলাম না । ” ( আল - মুদ্দাসৃসির : ৪০-৪৩ ) নামায হচ্ছে ঈমানের বাস্তব আমলী স্বীকৃতি । যার ফলে নামাযে আসামীর মতাে বুকে হাত বেধে হাজির হয় মাবুদের দরবারে । দাড়িয়ে হাত বেধে সূরা কেরাত পাঠ করে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । আল্লাহকে মুনিব ও নিজেকে তার গােলাম বলে স্বীকার করে নেয় । অত : পর সে মাথানত করে পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকে মহান প্রতিপালকের । তারপর সেজদায় গিয়ে মাথাকে মাটির সাথে ভুলুণ্ঠিত করে পূণরায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । আর এই সেজদাহ হলাে সর্বাত্মক দাসত্ব - গােলামী ও আত্মসমর্পণের প্রতীক । যার ফলে নামাযের মধ্যে নামাযির নিজের কোন স্বাধীনতা থাকে না । সে নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্যে গােলামীর প্রমাণ পেশ করে থাকে । এভাবেই নামাযকে পুরাদ্বীনের আমলী মূল ভিত্তি তথা ঈমানের বাস্তব ও স্থায়ী নিদর্শন বলা যায় । ( Islamic Website )