সারা দুনিয়ার মানবজাতি যখন শয়তানের প্রলােভনে অনাচার , অত্যাচার ও দেবদেবীর পূজায় ব্যস্ত তখন একদিন হযরত নূহ ( আঃ ) তাঁর সম্প্রদায়ের লােকদেরকে ডেকে বললেন , “ হে আমার সম্প্রদায় ! তােমরা শয়তানের প্রলােভনে পড়ে দেবদেবীর পূজা ও অন্যায় আচরণ করছ । তারা তােমাদের কোন রকম উপকার করতে পারবে না । অতএব তােমরা আল্লাহকে ভয় কর । তিনি তােমাদের মঙ্গল করবেন । " তিনি আরাে বললেন , বল , “ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু নূহ নবীউল্লাহু ” অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই , নূহ তার প্রেরিত পুরুষ । দেবদেবীর বিরুদ্ধে হযরত নূহ ( আঃ ) -এর এই অশুভবাণী শুনে তারা অত্যধিক রাগান্বিত হলাে এবং তার গলায় দড়ি বেঁধে সমস্তপথ টেনে বেড়াতে লাগল । তাতে তিনি তিনদিন শয্যাশায়ী হয়েছিলাে । তাছাড়াও তার উপর পাথর ছুঁড়ে এবং নানাবিধ অত্যাচার করে তাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল । এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলল , “ হে নূহ ! যদি তুমি এরকম কথা বন্ধ না কর , তবে তােমাকে হত্যা করা হবে । ” তাদের হুমকিতে হযরত নূহ ( আঃ ) বিচলিত হলেন না এবং তাঁর সত্য প্রচার হতেও বিরত হলেন না । তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন , “ হে আমার প্রভু ! আমাকে ও আমার অনুসারীদেরকে অত্যাচারীদের হাত হতে রক্ষা কর । হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে তােমার সত্য প্রচারে সাহায্য কর । " দয়ালু আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রার্থনা মনযুর করলেন এবং জানালেন , “ অচিরেই তাদের উপর অভিশাপ বর্ষিত হবে । সারাজাহান ব্যাপী মহাপ্লাবনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে । “ হে নূহ ! অতিশীঘ্র একটি নৌকা প্রস্তুত কর এবং তােমার অনুসারীদেরসহ সমস্ত জীবজন্তুর এক এক জোড়া করে এবং সমস্ত বৃক্ষ , শস্যাদির বীজ নিয়ে ঐ নৌকায় আরােহণ কর । " আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) -এর পরামর্শে হযরত নূহ ( আঃ ) তাঁর অনুসারীদের সহায়তায় একটি বিরাট নৌকা নির্মাণ করলেন । শুষ্ক মরু এলাকায় নৌকা তৈরি করতে দেখে বিধর্মীরা উপহাস - বিদ্রুপে অতিষ্ঠ করে তুলল । এবং নৌকাটিকে তারা পায়খানায় পরিণত করে মল দ্বারা তা পূর্ণ করল। করুণাময় আল্লাহ তা'আলার ইঙ্গিতে এক কুৎসিত বৃদ্ধা পায়খানা করার । সময় মলের মধ্যে পড়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে এক রূপবতী সুন্দরী যুবতীতে পরিণত হলাে । তা দেখে দেশের আবাল - বৃদ্ধবনিতা সকলেই ঐ মল তাদের গায়ে মেখে সুন্দর যুবক যুবতীতে পরিণত হতে লাগল । আল্লাহ তা'আলার অসীম কৃপায় অল্পক্ষণের মধ্যেই নৌকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল । হযরত নূহ ( আঃ ) তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন , “ হে আমার গােত্রের লােকেরা ! তােমরা এখনও চিন্তা করে দেখ সত্য প্রচার ভিন্ন ধনরত্ন চাইছি না । শুধু এক আল্লাহর বিশ্বাসী হও এবং তাঁর ইবাদত কর । তাতে তােমরা ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা পাবে । অন্যথায় তােমাদের উপর অতিশীগ্রই আল্লাহর গৰ নাযিল হবে । ” হযরত নূহ ( আঃ ) -এর এই উক্তি শুনে তারা হাসি - বিদ্রুপ করে তাঁকে পাগল বলে অভিহিত করল , এমনকি তাঁর বিধর্মী স্ত্রী - পুত্রেরাও উপহাস করতে লাগল । একদা হযরত নূহ ( আঃ ) -এর বিধর্মী পত্নী রান্না করছিল হঠাৎ উনান হতে পানির স্রোত প্রবাহিত হতে শুরু হলাে । তা হযরত নূহ ( আঃ ) -এর কর্ণগােচর হলে তিনি বুঝতে পারলেন আজ হতে মহাপ্লাবন শুরু হলাে এবং আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ মােতাবেক তাঁর অনুসারীদেরসহ সমস্ত জীবজন্তুর এক এক জোড়া এবং সব ফলমূল ও শস্যবীজসহ বিসমিল্লাহ বলে নৌকায় আরােহণ করলেন । তিনি তাঁর বিধর্মী স্ত্রী ও পুত্র কিনানকে নৌকায় উঠতে বলায় পুত্র অবজ্ঞার সাথে বলল , “ আমি পর্বতের চূড়ায় আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা করব । সেখানে প্লাবনের পানি পৌঁছতে পারবে না । ” মুহূর্তের মধ্যে বিরাট তুফান ও মহাপ্লাবনে কিনানসহ সমস্ত কিছু ডুবে গেল । হযরত নূহ ( আঃ ) পুত্রকে উদ্ধারের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন । আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন । “ হে নূহ ! বিধর্মী পুত্রের জন্য অনুশােচনা করে অজ্ঞের ন্যায় কাজ করাে না । ” হযরত নূহ ( আঃ ) নিজের ভুল বুঝতে পেরে বললেন , “ হে পরওয়ারদেগার ! আমি তােমার আশ্রয় গ্রহণ করছি । আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ , আমাকে মার্জনা কর । অন্যথায় আমি ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলভুক্ত হয়ে যাব । ” হযরত নূহ ( আঃ ) -এর ফরিয়াদ আল্লাহ তা'আলা মনযুর করলেন । মহাপ্লাবনে সারা জাহান ডুবে গিয়েছিল । একমাত্র কা'বা শরীফ আল্লাহর আরশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন । আল্লাহর আদেশে মহাপ্লাবন কমতে শুরু করল । নৌকাটি ভাসতে ভাসতে জুদী পর্বতের সাথে ঠেকল । ইতােমধ্যে নৌকার ভিতর মলমূত্রের দুর্গন্ধে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল । হযরত নূহ ( আঃ ) তার প্রতিকারের জন্য আল্লাহর কাছে মােনাজাত করলেন । আদেশ হলাে , “ হে নূহ ! হস্তীর মাথায় হাত রাখ । " সঙ্গে সঙ্গে হস্তীর নাসিকা হতে দুইটি শূকর বের হয়ে মলমূত্র খেয়ে ফেললাে । তাতে দুর্গন্ধ দূর হলাে । কিন্তু শয়তান হযরত নূহ ( আঃ ) -এর ক্ষতির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমতা চাইল । আল্লাহ তাকে ক্ষমতা প্রদান করলেন । সে শূকরের মাথায় হাত রাখল তার নাসিকা হতে দুইটি ইদুর বের হয়ে খাদ্যশস্য নষ্ট করতে লাগল । এই সংবাদ নূহ ( আঃ ) জানতে পেরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন । আল্লাহ তাকে বাঘের মাথায় হাত রাখতে বললেন । সঙ্গে সঙ্গে দুইটি বিড়াল বাঘের নাসিকা হতে বের হয়ে ইঁদুর দুইটি খেয়ে ফেলল । ইদুরের উৎপাত হতে খাদ্যশস্যাদি রক্ষা পেল । আল্লাহর আদেশে জিবরাঈল ( আঃ ) সাতটি খাল খনন করে দিলেন । প্লাবন কমে গেল । সাতটি খাল পরে সাতটি সাগরে পরিণত হয় । পৃথিবীতে মানুষ বসবাসের উপযােগী হলে হযরত নূহ ( আঃ ) তার অনুসারীসহ মাটিতে অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর আদেশে শস্যাদির বীজ বপন করে খাদ্য ফলাতে লাগলেন । এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন । “ অধিক পাপে ধ্বংস , অতএব পাপকাজ হতে বিরত থাকা উচিত।”
Thursday, September 2, 2021
Author: Jabed Khan
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.


0 coment rios: