Wednesday, August 25, 2021

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

 



ইবনে ইসহাক ( রহঃ ) বর্ণনা করিয়াছেন যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খাদীজা ( রাঃ ) নামায পড়িতেছিলেন । এমন সময় হযরত আলী ( রাঃ ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন ,হে মুহাম্মদ , ইহা কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , ‘ ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন । আমি তােমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি , যাঁহার কোন অংশীদার নাই ; তাঁহার এবাদত কর ও লা - ত , ওয্যার এবাদতকে অস্বীকার কর । হযরত আলী ( রাঃ ) বলিলেন , ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই । সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পছন্দ করিলেন না যে , দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ হইতে প্রকাশ্য ঘােষণার পূর্বে তাহা ফাস হইয়া যাক । অতএব তিনি বলিলেন , হে আলী , যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ । হযরত আলী ( রাঃ ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন । তিনি সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন , হে মুহাম্মাদ , গতকল্য আমাকে কি বলিয়াছিলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , সাক্ষ্য দাও যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নাই , তিনি একা , তাঁহার কোন অংশীদার নাই ; আর লাত ও ওয্যাকে অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর । সুতরাং হযরত আলী ( রাঃ ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন । তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গােপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গােপন রাখিলেন , প্রকাশ করিলেন না । হাব্বাহ ওরানী ( রহঃ ) বলেন , আমি হযরত আলী ( রাঃ ) কে একবার মিম্বারে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে , এরূপ আর কখনও দেখি নাই । হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল । অতঃপর তিনি ( হাসির কারণ স্বরূপ ) বলিলেন , আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল । একদিন আমি ‘ বাতনে নাখলা ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত নামায পড়িতেছিলাম । এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , ভাতিজা , তােমরা কি করিতেছ ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তিনি বলিলেন , তােমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই , তবে ( সেজদার সময় ) আপন নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানাে আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না । হযরত আলী ( রাঃ ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন । তারপর বলিলেন , আয় আল্লাহ , আপনার নবী ব্যতীত এই উম্মাতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই । এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন , অন্যান্য লােকদের অপেক্ষা সাত বৎসর পূর্বে আমি নামায পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি । ( Islamic website ) 

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

 


আতা ইবনে ইয়াসার ( রহঃ ) বলেন , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর । ইবনে আস ( রাঃ ) এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম , তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল গুণাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন । তিনি বলিলেন , অবশ্যই , খােদার কসম তাঁহার যে সকল গুণাবলী কোরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাওরাতেও তাহাই বর্ণিত হইয়াছে । যেমন — হে নবী , আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী ও উম্মীদের ( অর্থাৎ আরবদের ) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি । আপনি আমার বান্দা ও রাসূল , আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি । তিনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন , বাজারে শােরগােলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ ও ক্ষমা করিয়া দেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষণ না মানুষ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়িয়া বক্ৰদ্বীনকে সােজা করিয়া লইবে । ( অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাঁকাপথে চলিয়াছে উহা । ছাড়িয়া সেরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সােজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে । ) তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধীর কান এবং রুদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন । ( আহমাদ ) অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে , আল্লাহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্ৰদ্বীনকে সােজা না করিয়া তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না । অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ ( রহঃ ) এরূপ উল্লেখ

 করিয়াছেন যে , আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাউদ ( আঃ ) এর উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন “ হে দাউদ , তােমার পর অতিসত্বর এক নবী আসিবেন , যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে , তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যেদ হইবেন । আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায় হইব , আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না । আমি তাঁহার অগ্র - পশ্চাতের সকল ভুল - ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি । তাঁহার উম্মাত আমার রহমতপ্রাপ্ত , আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐসকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী ও রাসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি । অতএব তাহারা কেয়ামতের দিন আমার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হইবে যে , তাহাদের নূর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে । ” এইরূপে অনেক কথা আলােচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন , “ হে দাউদ , আমি মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাতকে সকল উম্মাতের উপর সম্মান দান করিয়াছি । ( বিদায়াহ ) সাঈদ ইবনে আবি হেলাল ( রহঃ ) হইতে বর্ণিত আছে যে ,হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) কে বলিলেন , আমাকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁহার উম্মাতের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন । তিনি বলিলেন , আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাবে ( অর্থাৎ তাওরাতে ) তাহাদের সম্পর্কে এরূপ পাইয়াছি , আহমাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা ভাল - মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে । প্রত্যেক উঁচু জায়গায় ( উঠিতে ) তাহারা আল্লাহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় ( নামিতে ) তাহারা সুবহানাল্লাহ পড়িবে । তাহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে - বাতাসে ধ্বনিত হইবে । পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাহাদের ( কোরআন পাঠের ) মৃদু গুঞ্জন ( শ্রুত ) হইবে । ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাহারা নামাযে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । নামাযের কাতারের ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে তাহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । যখন তাহার আল্লাহর রাহে জেহাদে বাহির হইবে তখন তাহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবে । আর যখন তাহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেন — বলিয়া হযরত কা'ব ( রহঃ ) দুইহাত প্রসারিত করিয়া দেখাইলেন — যেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে । তাহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না । ( আবু নুআঈম ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) হইতে অনুরূপ এক রেওয়ায়াতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে , তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উচুস্থানে আল্লাহু আকবার বুলিৰে । ( নামায ইত্যাদি এবাদতের সময় নির্ধারণের জন্য ) সূর্যের খেয়াল রাখিবে । ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করিবে । কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গী বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ ধৌত করিবে ।

Tuesday, August 24, 2021

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি  দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

নামাযে সিজদারত অবস্থায় যদি দু’পায়ের আঙ্গুল মাটি থেকে উঠে যায়, তাহলে কি নামায ভেঙ্গে যাবে?

 



সিজদারত অবস্থায় কোন এক মুহুর্তের জন্য হলেও এক পায়ের কিছু অংশ জমিনে থাকা জরুরী। আর যদি পূর্ণ সিজদায় দুইও পা জমিন থেকে আলাদা থাকে অর্থাৎ, সম্পূর্ণ সিজদার মধ্যে কিছুক্ষণের জন্যও পায়ের কিছু অংশ জমিনে লাগে নাই তাহলে সিজদাহ্ সহীহ না হওয়ার কারণে নামায হবে না। সেই নামায আবার পড়তে হবে।

আর যদি সিজদারত অবস্থায় আঙ্গুল কিছু সময়ের জন্য জমিন থেকে উঠে যায় এবং উঠার পর আবার সাথে সাথে জমিনের সাথে মিলিয়ে নেয়, তাহলে নামায ভঙ্গ হবে না। তবে মাকরূহ হবে। কারণ, পূর্ণ সময় দুই পা জমিনে রাখা এবং কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাতে মু‘আক্কাদা। [প্রমাণঃ দুররে মুখতার ১:৪৪৭  ফাতাওয়া তাতার খানিয়া ১:৫০৬  হালাবী কবীর ১:৬৮৫ ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪:৩৫ আহসানুল ফাতাওয়া ৩:৩৯৮

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

৬ ভাবে অন্তর কলুষিত হয়

 


১. একসময় তাওবা করে নেব ,এই চিন্তা করে যারা গুনাহ করে

২. জ্ঞান অর্জন করেও এই জ্ঞানের প্রয়োগ না করা অন্য কে এই জ্ঞানের শিক্ষা না দেয়া 

৩. নিষ্ঠাবিহীন আমল 

৪. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে তাঁর দেওয়া রিযিক ভোগ করা

৫. আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত ফয়সালায় (অর্থাৎ ভালো মন্দ তাকদীরের ওপর) সন্তুষ্ট না হওয়া 

৬. মৃতকে ব্যাক্তিকে কবর দিয়েও কোনো শিক্ষা না নেওয়া। 

Monday, August 23, 2021

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত

মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি আলামত



🔳 প্রথম ধাপের নাম ইয়াউমুল মাউত!


এই দিনেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, জীবন ফুরিয়ে যাবে। আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করবেন জমিনে গিয়ে জান কবজ করে নিয়ে আসার জন্য ।বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ এই দিনের কথা  জানেনা। যে দিন তার জান কবজ করা হবে  সেইদিন ও সে জানবে না আজ তার জান কবজ করার দিন। মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি না করা সত্বেও শরীরে কিছু পরিবতর্ন অনুভব করবে। ইমানদারের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হবে, আর পাপিষ্ঠদের বুকে কষ্ট চাপ অনুভব করবে। এই সময় শয়তান এবং জীন ফেরেশতাদের নামতে দেখবে। কিন্তু আমরা কেউ তাদের দেখবোনা। এই বিষয়টি  কোরআনে আছে

﴿وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ..﴾

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যেদিন তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে আল্লাহর দরবারে । অতপরঃ প্রতিটি নফসকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে তার কর্মফল। (সূরা বাক্বারা)


🔳 এরপর আসবে দ্বিতীয় ধাপ!


এটা হচ্ছে ধীরেধীরে জান কবজ করার পালা। এই ধাপে মানুষের রুহ পায়ের পাতা থেকে শুরু করে গোছা, হাটু,পেট,নাভি ও বুকের উপর হয়ে মানুষ দেহের "তারাক্বী" নামক জায়গায় পৌছে যায়। এই সময় মানুষ  অস্থিরতা অনুভব করেন। এবং একধরণের অসহনীয় বুুকে চাপ অনুভব করবেন। তখনও তিনি জানতে পারবেন না যে তার জান কবজ করা হচ্ছে ।


🔳 তারপর শুরু হয় তৃতীয় ধাপ!


এই ধাপের নাম " তারাক্বী " কোরআনে এই স্তরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে ;


﴿كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ  وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ  وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ  وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ 

﴾ (سورة القیامة

‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে। এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে’।পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে। ( সূরা কিয়ামাহ )


তারাক্বী বলা হয় কণ্ঠনালিরর নিচে ২ কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়কে। "কে ঝাড়বে" অর্থাৎ আত্মিয়-স্বজনদের কেউ কেউ বলবে : ডাক্তার ডাকি, অন্যজন বলবে ইমারজেন্সিতে কল করি, আবার কেউ বলবে কোরআন পড়ে ফু দেই। এই অবস্থার মধ্যে ও মানুষ জীবনে ফিরে আসার কথা চিন্তা করতে থাকবে । সে বিশ্বাসই করতে চাবেনা যে রুহু তার দেহ ত্যাগ করছে! (وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ সে মনে করবে,বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে ) অর্থাৎ সে এখনো মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত নয়।সে বাচার জন্য অনেক চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু আল্লাহ তা'লা বলেন :(وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ) পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে ) 

অর্থাৎ মৃত্যুর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত হয়েগেছে । রুহু গোছাদ্বয় থেকে বেরিয়ে গেছে।সে আর পা নাড়াইতে চাইলেও পা নাড়াতে পারবেনা।এবং রুহু শরীর থেকে বের হয়ে তারাক্বীতে পৌছে গেছে।

("كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ")

 ‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে!


🔳 অতঃপর আসবে চতুর্থ ধাপ। এই ধাপের নাম হুলক্বুউম :


 মৃত্যুর এটাই শেষ স্তর এবং মানুষের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের অনেক কষ্টদায়ক কঠিন স্তর। ঠিক এই সময় তার চোখের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে।এবং সে তার চারপাশের ফেরেশতাদের দেখতে পাবে। এখান থেকেই আখেরাত দর্শনের স্তর শুরু হবে।

فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ ﴾ ( سورة - ق)

আমি তোমার সামনে থেকে পরদা সরিয়ে দিয়েছি, এখন তোমার দৃষ্টি প্রখর। (সূরা ক্বফ)


এই স্তরকে হুলক্বুউম নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর কালামের কারনে :

{ فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُوم  وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ  وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ }

প্রান যখন কণ্ঠাগত হয় তখন তোমরা তাকিয়ে থাক। আমি তোমাদের চেয়ে তার নিকটবর্তি। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা। (সূরা ওয়াকিয়াহ )


ُআল্লাহ তার পাশের উপস্থিত মানুষদের কে সম্বোধন করে বলছেন ; তোমরা যেখানে আছো সেও সেখানেই আছে ।সে যা দেখতে পারতেছে তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। সে ইমানদার হলে আল্লাহ তাআলার রহমত দেখবে এবং যদি পাপিষ্ঠ হয়  আল্লাহর আজাব এবং গজব দেখছে। এজন্যই আমরা তাকে দেখি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে।

وَنَحْن أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ

 অর্থাৎ আমি তোমাদের তার অধিক নিকটতর কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না । মানুষের জান কবজ এর সময়টা জীবনের সবথেকে কষ্টদায়ক কঠিন মুহূর্ত। তখন সে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুতি ও ভীতি দেখতে পায়। ফেরেশতাদের দেখতে পায়। তার জীবনে যত আমল করেছে তা চোখের সামনে তুলেধরা হয়ে থাকে। আর এই সময় মৃত্যুর ফেতনা ঘটে যায়। শয়তান এই ফেতনায় প্রবেশ করে এবং বিশ্বাসে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ ও নবীর ব্যাপারে,দ্বীনের ব্যাপারে ও কোরআন হাদিসের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে তার অন্তরে। এবং শয়তান তার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যেন সে বে ঈমান হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। এইসময় শয়তান নিশ্চিত হয়ে যায় যে এটা এই মানুষটির শেষ সময় এবং মালাকুল মাউত তার নিকটবর্তী। এজন্যই কোরআন আমাদের মৃত্যুর ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে বলছে :

﴿وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ(۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ﴾ (سورة المؤمنون).

আপনি বলুন ;হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি শয়তান থেকে। এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি তাদের উপস্থিতি থেকে। (সূরা মুমিন)

তুমি যদি সঠিক পথে তোমার জীবন পরিচালিত করো, এবং যদি অন্তরে আল্লাহ তার রাসুল এর  প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তুমি এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে মুমিন হয়ে বের হবে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে শয়তান তার কোন একজন নিকটাত্মীয়ের আকৃতিতে উপস্থিত হবে যিনি আগেই মারা গেছেন। সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলবে ; আমি তোমার পূর্বে মারা গিয়েছি । ইসলাম সত্য ধর্ম নয় এবং নবী সত্য দ্বীন নিয়ে আসেননি। এবং তোমাকে বলবে; তুমি সবকিছু অস্বীকার করো।

এই পরিস্থিতির কথা আল্লাহ তাআ'লা  কোরআনে বর্ণনা করেন;

﴿كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ﴾  ١٦).

তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান যখন সে মানুষকে বে ইমান করে পেলবে। যখন মানুষ শয়তানের কথায় কুফরি করবে তখন শয়তান তুুমাকে বলবে তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই ।আমি আল্লাহকে ভয় করি। (সূরা হাশর)

🔳 এরপর পঞ্চম ধাপ শুরু হবে !

এই সময় আজরাইল আলাইহিস সালাম প্রবেশ করবেন। এই সময় মানুষ বুঝতে পারবে সেকি জান্নাতি না জাহান্নামী। সে তার আমলনামা দেখবে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্তর নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। বিশেষভাবে যারা বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা না করেই আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন;:﴿وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا﴾ 

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা নির্মমভাবে(রুহ)  টেনে বের করে।(সূরা নাযিয়াত)

জাহান্নামে একদল ফেরেশতা থাকবে যারা আগুনের কাফন প্রস্তুত করে এবং খুব নির্দয়ভাবে পাপীষ্ট ব্যক্তির রুহ কবজ করে। অন্য আয়াতে এই কঠিন পরিস্থিতির চিত্র বর্ণিত হয়েছে ;

﴿فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ﴾

ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমন্ডল এবং পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের রুহ হরণ করবে তখন তাদের কী দশা হবে???(সূরা মোহাম্মদ)

🔳 এই ধাপের পর শুরু হবে ষষ্ঠ ধাপ!


এই ধাপে মানুষের রুহ প্রস্তুত হয়ে তারাক্বীর উপর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্তরে  পৌঁছে যাবে। এবং রুহ বের হওয়ার জন্য এবং আজরাইল আলাইহিস সালাম এর নিকট আত্মসমর্পণের জন্য নাকে মুখে অবস্থান করবে। বান্দা যদি গুনাহগার হয় তখন আজরাইল তাকে বলবে;হে নিকৃষ্ট আত্মা! তুই আগুন ও জাহান্নামের এবং ক্রোধান্বিত ও পপ্রতিশোধপরায়ন রবের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আস। তখন তার আভ্যন্তরীণ চেহারা কালো হয়ে যাবে। এবং চিৎকার করে বলবে ;

 ﴿رَبِّ ارْجِعُونِ. لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ﴾

হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠান যাতে আমি সৎকাজ করি যা আমি পূর্বে করিনি। (সূরা মুমিন)

কারন আমি নেককাজ করতে পারিনি।তখন সে শুনতে পাবে;


﴿كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ﴾ 

না এটা হতে পারেনা। এটা তো তার একটি উক্তিমাত্র। তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (সূরা মুমিন)


আল্লাহ তা'লা আরও বলেন;

وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ

মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই অবশ্যই আসবে, যা থেকে তুমি পালাচ্ছিলে।(সুরা ক্বফ)

﴿قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ﴾ 

আপনি বলুন; যেই  মৃত্যু থেকে তোমরা পালায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবেই। (সূরা জুমআ'হ)


💥শেষ কথা


আমরা কেন মৃত্যুকে ভয় পাই?


এর উত্তরঃ কারণ তোমরা দুনিয়াকে গ্রহণ  করেছ আর আখেরাতকে প্রত্যাখ্যান করেছ।


যে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করবে সে আখেরাতের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবে।

فاكثروا من ذكر هادم اللذات

“তোমরা সকল স্বাদ কর্তনকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো। আল্লাহ তাআ'লা যে আমাদের বেশি বেশি নেক কাজ করার তাওফিক দান করেন।