ইবনে ইসহাক ( রহঃ ) বর্ণনা করিয়াছেন যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খাদীজা ( রাঃ ) নামায পড়িতেছিলেন । এমন সময় হযরত আলী ( রাঃ ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন ,হে মুহাম্মদ , ইহা কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , ‘ ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন । আমি তােমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি , যাঁহার কোন অংশীদার নাই ; তাঁহার এবাদত কর ও লা - ত , ওয্যার এবাদতকে অস্বীকার কর । হযরত আলী ( রাঃ ) বলিলেন , ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই । সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পছন্দ করিলেন না যে , দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ হইতে প্রকাশ্য ঘােষণার পূর্বে তাহা ফাস হইয়া যাক । অতএব তিনি বলিলেন , হে আলী , যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ । হযরত আলী ( রাঃ ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন । তিনি সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন , হে মুহাম্মাদ , গতকল্য আমাকে কি বলিয়াছিলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , সাক্ষ্য দাও যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নাই , তিনি একা , তাঁহার কোন অংশীদার নাই ; আর লাত ও ওয্যাকে অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর । সুতরাং হযরত আলী ( রাঃ ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন । তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গােপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গােপন রাখিলেন , প্রকাশ করিলেন না । হাব্বাহ ওরানী ( রহঃ ) বলেন , আমি হযরত আলী ( রাঃ ) কে একবার মিম্বারে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে , এরূপ আর কখনও দেখি নাই । হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল । অতঃপর তিনি ( হাসির কারণ স্বরূপ ) বলিলেন , আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল । একদিন আমি ‘ বাতনে নাখলা ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত নামায পড়িতেছিলাম । এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , ভাতিজা , তােমরা কি করিতেছ ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তিনি বলিলেন , তােমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই , তবে ( সেজদার সময় ) আপন নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানাে আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না । হযরত আলী ( রাঃ ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন । তারপর বলিলেন , আয় আল্লাহ , আপনার নবী ব্যতীত এই উম্মাতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই । এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন , অন্যান্য লােকদের অপেক্ষা সাত বৎসর পূর্বে আমি নামায পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি । ( Islamic website )


0 coment rios: