Thursday, August 19, 2021

নামাজ হলাে ঈমানের বাস্তব নিদর্শন ( islamicweb20)


ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে প্রথমটা হলাে ঈমান , আর ঈমানের পরিচয় ও প্রমাণে কাজ করে নামায, যার ফলেই ঈমানের পরে নামাযের স্থান । সঠিক জ্ঞানের সহিত বিবেক দ্বারা বুঝে - শুনে যেভাবে ঈমান আনার প্রয়ােজন হয় , তেমনিভাবে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নামায কায়েমের মাধ্যমে ঈমানের পরিচয় দিতে হয় । হাদীসে রয়েছে :“ মু'মিন বান্দা ( ঈমানদার ) ও কাফেরের ( বেঈমান ) মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায । ” ( মুসলিম ও আবু দাউদ ) এখন যে ব্যক্তি সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে ঈমানের ঘােষণা কবুল করবে , সে ব্যক্তি ঈমানদার মুসলমান বা মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে । তখনই তাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায কায়েমের নির্দেশটি পালন করতে হবে । নামায শব্দটি এসেছে ছালাত শব্দ থেকে । ছালাত মানে অগ্রসর ও নিকটবর্তী হওয়া অর্থাৎ আল্লাহর লক্ষ্য আরােপ করা , তার দিকে অগ্রসর বা একান্ত নিকটবর্তী হওয়া বুঝানাে হয় । আর নামায অর্থ হলাে দোয়া বা প্রার্থনা । সমস্ত ইবাদাতের মধ্যে নামায একটি ইবাদাত ; যা ইসলামের প্রথম ভিত্তি ঈমানের পরেই দ্বিতীয় ভিত্তি হিসেবে নামাযের স্থান । পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাকের ঘােষণা রয়েছে : “ নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ ! আমি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই । অতএব তুমি আমার দাসত্ব করাে এবং আমার স্মরণে নামায কায়েম করাে । " ( ত্বা - হা : ১৪ ) ইসলামের অন্যান্য তিনটি ভিত্তি যা রয়েছে , তা মেনে চলতে হয় শর্ত ও সময় সাপেক্ষে । যেমন যাকাত ফরয হয় যাকাতের ছাহেবে নেছাব হলে এবং নেছাবের বর্ষ পূর্ণ হলে । রােজা ফরয হয় রমযান মাস উপস্থিত হলে এবং হজ্জ ফরয হয় শক্তি ও আর্থিক সামর্থ থাকলে হজ্জ মাসে মানুষের জীবনে একবার । কিন্তু নামাযের নির্দেশ পালন করা এধরনের কোন শর্ত সাপেক্ষ নেই বরং প্রতি দিনই পাঁচটি সময় উপস্থিত হয় । তাই সময় মতাে প্রত্যেক কালেমা পাঠকারীকে আল্লাহপাকের নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামায অবশ্যই কায়েম করতে হবে , অন্যথায় ঈমান আনার প্রমাণ ব্যর্থ যাবে । কারণ নামাযই হচ্ছে ঈমান থাকা না থাকার প্রমাণ । আল্লাহতায়ালা বলেন : “ কিন্তু না সে সত্য মেনে নিলাে , না সালাত আদায় করলাে বরং সত্যকে মিথ্যা মনে করলাে এবং ফিরে গেলাে । ” ( আল - কিয়ামাহঃ ৩১-৩২ ) হাদীসে রয়েছে : “ যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করলাে , সে কুফরী করলাে । " ( তিরমিযি ) আসলে নামায বঞ্চিত লােক ঈমান থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে । নামায কায়েমের ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে যে সমস্ত নির্দেশ ও বাণী রয়েছে , তা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে সহজে বুঝা যায় যে , নামায কায়েম না করে কোন ব্যক্তি । ঈমানদার বা মুসলমান বলে দাবি করতে পারে না । ইসলামের যাবতীয় ফরয । নামায স্বয়ং আল্লাহপাকের আরশের সম্মুখে “ শবে মেরাজে ফরয় হয়েছে । সে । যেমন - রােজা , হজ্জ , যাকাত , প্রভৃতি ওহীর মাধ্যমে দুনিয়াতে ফরয হয়েছে , কিন্তু । লক্ষ্যেই অন্যান্য সকল ইবাদাত অপেক্ষা একমাত্র নামাযের প্রতিই সবচেয়ে বেশী । সার্বিক কল্যাণ লাভের জন্য এবং আল্লাহর আইন - বিধান পালন , প্রচার ও প্রসারের । গুরুত্ব , নির্দেশ ও তাগিদ এসেছে । তাছাড়া আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন । দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে সব গুণাবলী প্রয়ােজন , সেগুলাে আমাদের মধ্যে সৃষ্টি । করার জন্যেই এই নামাযের হুকুম বেশী রয়েছে । তাই ইচ্ছা করে নামায ছেড়ে । দেওয়ার অর্থ দাঁড়ায় এই যে , আল্লাহপাক আশি বারেরও বেশী যে নামাযের হুকুম । করেছেন আর আপনি তা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন , তারপরও আপনি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন । হয়তাে এই দাবিতে একটু আত্মপ্রসাদ লাভ করা যেতে পারে , কিন্তু জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোন উপায় থাকতে পারে না । আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : “ জান্নাতিরা অপরাধী লােকদেরকে জিজ্ঞাসা করবে কোন জিনিসটি তােমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে ? তারা বলবে আমরা সালাত আদায় করা লােকদের মধ্যে শামিল ছিলাম না । ” ( আল - মুদ্দাসৃসির : ৪০-৪৩ ) নামায হচ্ছে ঈমানের বাস্তব আমলী স্বীকৃতি । যার ফলে নামাযে আসামীর মতাে বুকে হাত বেধে হাজির হয় মাবুদের দরবারে । দাড়িয়ে হাত বেধে সূরা কেরাত পাঠ করে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । আল্লাহকে মুনিব ও নিজেকে তার গােলাম বলে স্বীকার করে নেয় । অত : পর সে মাথানত করে পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকে মহান প্রতিপালকের । তারপর সেজদায় গিয়ে মাথাকে মাটির সাথে ভুলুণ্ঠিত করে পূণরায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । আর এই সেজদাহ হলাে সর্বাত্মক দাসত্ব - গােলামী ও আত্মসমর্পণের প্রতীক । যার ফলে নামাযের মধ্যে নামাযির নিজের কোন স্বাধীনতা থাকে না । সে নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্যে গােলামীর প্রমাণ পেশ করে থাকে । এভাবেই নামাযকে পুরাদ্বীনের আমলী মূল ভিত্তি তথা ঈমানের বাস্তব ও স্থায়ী নিদর্শন বলা যায় । ( Islamic Website )


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

2 comments:

  1. আল্লাহ পাক আমাদের যেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তাওফিক দান করেন

    ReplyDelete