আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় বলতে আল্লাহর নিকটবর্তী, কাছাকাছি, সান্নিধ্য, ঘনিষ্ঠতা ইত্যাদি অর্জনের পথ বা রাস্তা বুঝায়। আল্লাহর নৈকট্য লাভ মানেই তাঁরই মেহমান হিসাবে গণ্য হওয়া অর্থাৎ জান্নাতবাসী বলে সফলতা অর্জন করা। আর এ সফলতা লাভে সবারই থাকে কাম্য তবে অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু সঠিক পথে জীবন-যাপন করে যাচ্ছি সেটা হলাে ভাবার বিষয়। স্বাভাবিক রিতীতে এবং বাস্তবেও সত্য যে, কোন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দল ও দেশ নির্বিশেষে কেউ কারাে ঘনিষ্ঠতা, সান্নিধ্য বা স্বার্থ লাভে একে অন্যের স্বপক্ষে বা মতানুসারী হয়ে চলতে হয়। আর চলাতে বিপক্ষে বা মতানৈক্য দেখা দিলে । বহিষ্কার, বিচ্ছেদ অর্থাৎ স্বার্থ লাভে বঞ্চিত থাকতে হয়। এছাড়া আরাে দেখা যায়। যে, বাস্তব জীবনে প্রতিটি কাজ-কর্মে নীতিমালা রয়েছে, যা লংঘন করলে শান্তি বা সফলতার বদলে অশান্তি ও কুফলতা দেখা দেয়। যেমন কোন অধীনস্ত কর্মচারী তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের দেওয়া বিধিমালা লংঘন করলে অথবা কোন রােগী তার ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ সেবনসূচীতে নির্দেশ-নিতী অমান্য করলে ফল কি দাঁড়াবে? তা আমাদের বুঝার বাকী থাকে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতিপালক, স্রষ্টা ও মালিক হিসাবে তিনি সৃষ্টিকে চলার যে বিধিমালা বা জীবন বিধান দিয়েছেন, সেই পবিত্র জীবন সংবিধান লংঘন। করে চললে কুফলতা অর্থাৎ নৈকট্য লাভে ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই যে থাকবে না সেটাও আমাদের হৃদয়ংগম করে বুঝা উচিত। আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করে জীবন চলার সঠিক বিধান জ্ঞান-বিবেক-বুদ্ধি ও স্বাধীনতাসহ যাবতীয় নিয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। মানুষ যাতে নৈকট্য লাভে ব্যর্থ না হয় সেজন্য ইসলামকে মানুষের জীবন ব্যবস্থা হিসাবে পছন্দ করেছেন। আল্লাহপাক বলেন: “নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযােগ্য জীবন ব্যবস্থা।” (আল-ইমরান: ১৮) | অন্যত্র আরাে বলেন: “আজ তােমাদের জন্য তােমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তােমাদের উপর আমার প্রতিশ্রুত নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিলাম আর ইসলামকে তােমাদের দ্বীন হিসেবে মনােনীত করলাম।” (আল-মায়েদা: ৩) আল্লাহ তা'য়ালা মানুষের দ্বীনকে ইসলাম নামে পছন্দ ও মনােনীত করেছেন। ইসলামের শাব্দিক অর্থ হলাে শান্তি ও আত্মসমর্পণ । পারিভাষিক অর্থে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শান্তি লাভ করা। আর দ্বীন ইসলাম মানে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ইসলাম নামে যে জীবন বিধান রাসূল (সাঃ) এর নিকট পাঠানাে হয়েছে, আল্লাহর
নবী বিশ্বের মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও শান্তির জন্যে যে মহান ধর্ম করে গিয়েছেন তাকে ইসলাম ধর্ম বলে এবং ঐ ধর্মের অনুসারীকে মুসলমান বলা অথাৎ যে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সক রাসূল (সঃ)-কে আনুগত্য সহ তিনির উপর নাযিলকৃত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের লিঙ্গ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। শুধু মুখে ইসলাম, জাতে মুসলমান বললেই নৈকট্য অর্জন হয় না বরং ইসলামে দাখিল হতে হবে সম্পূর্ণরূপে। আল্লাহপাক বলেন- ত ঈমানদারগণ! তােমরা পূণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের চালচলন অনুসরত করাে না, কেননা শয়তান তােমাদের প্রকাশ্য দুষমন।” (আল-বাকারা: ২০৮)। অন্যত্র বলেন- “হে মুমিনগণ! যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে তােমরা আল্লাহকে ভয় কর, আর তােমরা অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মরিও না।” (আল-ইমরান: ১০২)। মানুষ আমরা সবাই পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে মহান আল্লাহ তায়ালাকে রব। (প্রতিপালক) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছি এবং আমরা যে এক আদম সন্তান হিসেবে। দুনিয়াতে বিচরণ করছি সেই কথাটুকু যদি আমাদের স্বরণে রেখে জীবন-যাপন করি। তাহলে দুনিয়াতে যেমন অন্যায়-অবিচার, যুলুম-নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণ, বেকারত্বদারিদ্রতা ইত্যাদি যাবতীয় থেকে বাঁচা যাবে, তেমনি সর্বকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভেও ধন্য হবে। পবিত্র কোরআনে রয়েছে আল্লাহর কি প্রয়ােজন তােমাদের অযথা শাস্তি দেবার, যদি তােমরা কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকো এবং ঈমানের নীতির উপর চলাে? আল্লাহ বড়ই পুরস্কার দানকারী ও সর্বজ্ঞ।” (আন-নিসা: ১৪৭) মানুষ যেহেতু মরণশীল এবং পরকালীন জীবনে আল্লাহর কাছেই ফিরতে। হবে সেহেতু মরনের আগেই আখেরাতের প্রস্তুতি অর্থাৎ প্রথমে কবর এবং পরে হাশর এ দুটি ঘাটে আল্লাহর নৈকট্য লাভে আমাদের কি কি প্রয়ােজন হবে, তা। কোরআন ও হাদীস থেকে সংগ্রহ করে দুনিয়াতেই আমল করে যেতে হবে। যেমন হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে, কবরে মানুষকে যে প্রশ্নগুলাে করা হবে তার প্রথমটি হলাে ”মান রাব্বুকা? অর্থ- তােমার রব কে? দ্বিতীয়টি "মান দীনুকা? অর্থ- তােমার দ্বীন কি? তৃতীয়টি “মান নাবিয়ুকা?” অর্থ- তােমার নবী কে? যার উত্তর সঠিক হিসেবে প্রথমটা হবে “রাব্বি আল্লাহ” অর্থ- আমার রব আল্লাহ। দ্বিতীয়টা “দ্বীনীল ইসলাম” অর্থ- আমার দ্বীন ইসলাম। তৃতীয়টা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অর্থ- আমার নবী মুহাম্মদ (সঃ) বলতে পারলেই ৪র্থ প্রশ্ন আসবে তুমি কিভাবে জানলে? তখন উত্তরে বলবে “আমি আল্লাহর কিতাব অর্থাৎ কোরআন পড়ে জানতে পেরেছি। আর এটাই হবে বিরাট সফলতা বা নৈকট্যলাভ। তবে আমাদের অবশ্যই জানা থাকা দরকার যে, উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তরগুলাে শুধু মুখস্থ থাকলেই কঠিন সময়ে মুখ দিয়ে বাহির হবে না বরং বাস্তব জীবনে সর্বক্ষেত্রে আমল থাকলে সহজভাবে জবান দিয়ে সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম হবে ।। এছাড়া হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে হাশরের ময়দানেও মানুষকে হতে হবে প্রশ্নের সম্মুখীন। সেখানে রয়েছে পাঁচটি প্রশ্ন, যার উত্তর না দিয়ে কেউই আখেরাতে। পার পাবেনা অর্থাৎ আদম সন্তানের পা মাটিতে লেগে থাকবে উত্তর না দেয়া পর্যন্ত। প্রশ্নগুলাে হচ্ছে
১) তােমার বয়স সীমা কিভাবে শেষ করে ফেলেছ?
২) তােমার যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছ? ৩) তােমার সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছ? ৪) উক্ত সম্পদ কোন কোন খাতে খরচ করেছ?
৫) যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছ তা দিয়ে কি কাজ করেছ? উল্লেখিত প্রশ্নগুলাের উত্তর আসলে সহজ নয় বরং কঠিন। তবে হায়াত থাকতে বাস্তব জীবনে যাবতীয় কর্মক্ষেত্রে প্রশ্নগুলাে সামনে রেখে জীবন-যাপন করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করা যেতে পারে। সুতরাং মা'বুদের সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে আমাদেরকে প্রথমেই জীবনযাপনের সঠিক পথ নির্ধারণ করতঃ তিনির দেওয়া জীবন ব্যবস্থা অর্থাৎ বিধানের সাথী বা অনুসারী হতে হবে। উক্ত বিধানকে বুঝার জন্যে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন সহ নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে সেই দিকে কাজে লাগানাের জন্য দায়িত্বশীল হতে হবে । ইসলামের যে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে সেগুলােকে যথাযথভাবে আমলে রূপান্তরিত করা লাগবে। অশান্তি থেকে মুক্তি লাভ পেতে তাওহীদ ভিত্তিক ইবাদত সহ মাবুদের কাছে ধর্ণা দিতে হবে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তিনির নৈকট্য লাভের পথ আমল করার তাওফিক কামনা করি ।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ
ReplyDelete