একদা ইদরীস ( আঃ ) নির্জনে বসে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে গভীরভাবে মগ্ন ছিলেন । তিনি সেইদিন রােযা ছিলেন । এমন সময় হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর অনুমতি নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) আগন্তুককে চিনতে পারলেন না । সন্ধ্যায় তার খাবার আগন্তুকে প্রদান করে তিনি উপবাস থাকেন এবং ইবাদতে মগ্ন হলেন , কিন্তু আগন্তুক সেই খাবার গ্রহণ করলেন না । তিনিও ইবাদতে মগ্ন হলেন । পরদিন সকালে ইদরীস ( আঃ ) আগন্তুককে সঙ্গে করে আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির সৌন্দর্য দর্শন করার জন্য মাঠে গমন করলেন । তিনি আগন্তুকের সঙ্গে তিনদিন কাটালেন । কিন্তু আগন্তুক সেই তিনদিন কোন প্রকার খাদ্য গ্রহণ না করায় হযরত ইদরীস ( আঃ ) খুবই আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং আগন্তুককে জিজ্ঞাসা করলেন , ' আল্লাহর শপথ আপনি কে ? " আগন্তুক উত্তর দিলেন, “ আমি আযরাঈল , আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এসেছি । " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করলেন “ আপনিতাে সমস্ত প্রাণীর জীবন হরণ করে থাকেন । আপনি কি আমার প্রাণ হরণ করতে এসেছেন ? হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন , “ হ্যা , আমি আল্লাহর আদেশে সকল প্রাণীর জীবন হরণ করে থাকি । কিন্তু আমি আপনার প্রাণ হরণ করতে আসিনি , শুধু বন্ধুত্ব করতে এসেছি । " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করান । “ তিনদিন আপনি আমার সাথে অতিবাহিত করেন , এই সময়ের মধ্যে কি কারাে জান কব করেছেন ? হযরত আযরাঈল ( আঃ ) উত্তর দিলেন,“ হ্যা আল্লাহর হুকুম হলেই আমি হস্ত প্রসারিত করে জান কবয় করে থাকি। " হযরত ইদরীস ( আঃ ) তাঁকে বললেন “ আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে রাযী আছি । যদি আপনি আমার জান কবয করে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করান।তাতে আমি আল্লাহকে বেশী করে ভয় করব এবং অধিক ইবাদত করতে পারব। হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন,“ হে ইদরীস আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা সম্ভব নয়।
হযরত আযরাঈল ( আঃ ) হযরত ইদরীস ( আঃ ) -এর জান কবয করার জন্য আল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন । হযরত আযরাঈল ( আঃ ) -এর প্রতি আল্লাহর আদেশ হলাে , " ইদরীসের জান কবয কর । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁর জান কবয করলেন আবার আল্লাহর কাছে তাকে পুনর্জীবিত করার জন্য আকুল প্রার্থনা জানালেন । আল্লাহ তাঁকে পুনর্জীবিত করেন । হযরত আযরাঈল ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করলেন , “ হে বন্ধু ! মৃত্যুর স্বাদ কেমন ? " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জানালেন , “ কোন প্রাণীর মাথা হতে পা পর্যন্ত চামড়া টেনে ছিড়লে যেমন কষ্ট হয় , আমার সেই রকম কষ্ট হয়েছে । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন , “ হে দোস্ত ! আমি আপনার জান কব্য । করেছি অতি আরামের সাথে । আর কারাে বেলায় এই রকমভাবে কবয করা হবে । পাপীদের অতি নিষ্ঠুরতার সাথে জান কব্য করা হয়ে থাকে । ” অতঃপর ইদরীস ( আঃ ) হযরত আযরাঈল ( আঃ ) -কে বললেন , “ হে বন্ধু ! আমার খুব দোযখ দেখার ইচ্ছা হচ্ছে , আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন । তা দর্শনে অধিক ভয় হবে । তাতে আল্লাহর ইবাদত আরও বেশী করতে পারব । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁর অনুরােধে এবং আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকে দোযখ দেখালেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) অতঃপর বেহেশত দেখার বাসনা প্রকাশ করে বললেন , “ আমার বেহেশত দেখার ইচ্ছা হচ্ছে । আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য দর্শন করে ধন্য হতে চাই এবং সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অধিক পরিমাণে আল্লাহর উপাসনা করতে চাই । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাকে বেহেশতে নিয়ে গেলেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) বেহেশতে প্রবেশ করে একটি আসনে বসলেন । আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট বেহেশতের সৌন্দর্য দর্শনে মুগ্ধ হলেন । পরম শান্তিময় স্থান হতে বের হতে তার মন চাইল না । তার আসতে বিলম্ব দেখে হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁকে তাড়াতাড়ি ফিরার জন্য অনুরােধ জানালেন । কিন্তু ইদরীস ( আঃ ) মহা আরামদায়ক স্থান বেহেশতে হতে বাইরে আসতে অসম্মতি জানালেন । তখন হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর কাছে আর করলেন এবং আল্লাহর আদেশ হলাে , “ হে আযরাঈল ! তাকে পরিত্যাগ করে চলে যাও । আমি তার ভাগ্যে এই রকম লিখেছি । তাছাড়া সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছে এবং দোযখ পরিভ্রমণ করে বেহেশতে প্রবেশ করেছে । ” “ ইবাদত দ্বারাই আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব । ”


0 coment rios: