সর্বশেষ
Sunday, September 5, 2021
আল্লাহকে ভয় করাে ( islamicweb20)
Thursday, September 2, 2021
হযরত হুদ ( আঃ ) ও শাদ্দাদ ( Islamicweb20)
হযরত নূহ ( আঃ ) ও মহাপ্লাবন ( islamicweb20)
Wednesday, September 1, 2021
হযরত ইদরীস ( আঃ ) -এর বেহেশতে গমন ( islamicweb20)
Wednesday, August 25, 2021
হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)
ইবনে ইসহাক ( রহঃ ) বর্ণনা করিয়াছেন যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খাদীজা ( রাঃ ) নামায পড়িতেছিলেন । এমন সময় হযরত আলী ( রাঃ ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন ,হে মুহাম্মদ , ইহা কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , ‘ ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন । আমি তােমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি , যাঁহার কোন অংশীদার নাই ; তাঁহার এবাদত কর ও লা - ত , ওয্যার এবাদতকে অস্বীকার কর । হযরত আলী ( রাঃ ) বলিলেন , ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই । সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পছন্দ করিলেন না যে , দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ হইতে প্রকাশ্য ঘােষণার পূর্বে তাহা ফাস হইয়া যাক । অতএব তিনি বলিলেন , হে আলী , যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ । হযরত আলী ( রাঃ ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন । তিনি সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন , হে মুহাম্মাদ , গতকল্য আমাকে কি বলিয়াছিলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , সাক্ষ্য দাও যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নাই , তিনি একা , তাঁহার কোন অংশীদার নাই ; আর লাত ও ওয্যাকে অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর । সুতরাং হযরত আলী ( রাঃ ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন । তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গােপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গােপন রাখিলেন , প্রকাশ করিলেন না । হাব্বাহ ওরানী ( রহঃ ) বলেন , আমি হযরত আলী ( রাঃ ) কে একবার মিম্বারে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে , এরূপ আর কখনও দেখি নাই । হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল । অতঃপর তিনি ( হাসির কারণ স্বরূপ ) বলিলেন , আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল । একদিন আমি ‘ বাতনে নাখলা ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত নামায পড়িতেছিলাম । এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , ভাতিজা , তােমরা কি করিতেছ ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তিনি বলিলেন , তােমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই , তবে ( সেজদার সময় ) আপন নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানাে আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না । হযরত আলী ( রাঃ ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন । তারপর বলিলেন , আয় আল্লাহ , আপনার নবী ব্যতীত এই উম্মাতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই । এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন , অন্যান্য লােকদের অপেক্ষা সাত বৎসর পূর্বে আমি নামায পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি । ( Islamic website )
পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)
আতা ইবনে ইয়াসার ( রহঃ ) বলেন , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর । ইবনে আস ( রাঃ ) এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম , তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল গুণাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন । তিনি বলিলেন , অবশ্যই , খােদার কসম তাঁহার যে সকল গুণাবলী কোরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাওরাতেও তাহাই বর্ণিত হইয়াছে । যেমন — হে নবী , আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী ও উম্মীদের ( অর্থাৎ আরবদের ) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি । আপনি আমার বান্দা ও রাসূল , আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি । তিনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন , বাজারে শােরগােলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ ও ক্ষমা করিয়া দেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষণ না মানুষ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়িয়া বক্ৰদ্বীনকে সােজা করিয়া লইবে । ( অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাঁকাপথে চলিয়াছে উহা । ছাড়িয়া সেরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সােজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে । ) তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধীর কান এবং রুদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন । ( আহমাদ ) অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে , আল্লাহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্ৰদ্বীনকে সােজা না করিয়া তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না । অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ ( রহঃ ) এরূপ উল্লেখ
করিয়াছেন যে , আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাউদ ( আঃ ) এর উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন “ হে দাউদ , তােমার পর অতিসত্বর এক নবী আসিবেন , যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে , তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যেদ হইবেন । আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায় হইব , আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না । আমি তাঁহার অগ্র - পশ্চাতের সকল ভুল - ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি । তাঁহার উম্মাত আমার রহমতপ্রাপ্ত , আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐসকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী ও রাসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি । অতএব তাহারা কেয়ামতের দিন আমার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হইবে যে , তাহাদের নূর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে । ” এইরূপে অনেক কথা আলােচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন , “ হে দাউদ , আমি মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাতকে সকল উম্মাতের উপর সম্মান দান করিয়াছি । ( বিদায়াহ ) সাঈদ ইবনে আবি হেলাল ( রহঃ ) হইতে বর্ণিত আছে যে ,হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) কে বলিলেন , আমাকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁহার উম্মাতের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন । তিনি বলিলেন , আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাবে ( অর্থাৎ তাওরাতে ) তাহাদের সম্পর্কে এরূপ পাইয়াছি , আহমাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা ভাল - মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে । প্রত্যেক উঁচু জায়গায় ( উঠিতে ) তাহারা আল্লাহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় ( নামিতে ) তাহারা সুবহানাল্লাহ পড়িবে । তাহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে - বাতাসে ধ্বনিত হইবে । পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাহাদের ( কোরআন পাঠের ) মৃদু গুঞ্জন ( শ্রুত ) হইবে । ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাহারা নামাযে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । নামাযের কাতারের ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে তাহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । যখন তাহার আল্লাহর রাহে জেহাদে বাহির হইবে তখন তাহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবে । আর যখন তাহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেন — বলিয়া হযরত কা'ব ( রহঃ ) দুইহাত প্রসারিত করিয়া দেখাইলেন — যেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে । তাহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না । ( আবু নুআঈম ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) হইতে অনুরূপ এক রেওয়ায়াতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে , তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উচুস্থানে আল্লাহু আকবার বুলিৰে । ( নামায ইত্যাদি এবাদতের সময় নির্ধারণের জন্য ) সূর্যের খেয়াল রাখিবে । ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করিবে । কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গী বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ ধৌত করিবে ।

