সর্বশেষ

Sunday, September 5, 2021

 আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করাে ( islamicweb20)

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করাে ( islamicweb20)



নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “ আমার উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে দাখেল হবে , যারা সর্ববিষয়ে শুধু আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে ।  ( বােখারি , মুসলিম )
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাে বলেছেন- ' যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল না করে মনের ইচ্ছা মত দৌড় - ঝাঁপ করবে , সে কোথায় গিয়ে ধ্বংস হলাে আল্লাহ তার কোন পরােয়া করবেন না । আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে ( জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মত আমল করবে এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে ) ত্যর সমস্ত প্রয়ােজনের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যাবেন ( এবং তার দিলে সব সময় শান্তি ও প্রশান্তি থাকবে )  তাওয়াক্কুল ' অর্থ , জীবনের সব কাজে , সব বিষয়ে শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করা । কেননা দুনিয়াতে যা কিছু হয় , আল্লাহর হুকুমেই হয় , আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না । আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না । মানুষ যা কিছু পায় আল্লাহর খাজানা থেকে পায় । আসবাব বা উপায় - উপকরণ হলাে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের কাছে আসার মাধ্যম মাত্র । যেমন ধরাে , ছাদের উপরে টাংকিতে পানি আছে । সেই পানি নল দিয়ে গড়িয়ে আসে এবং কল দিয়ে পড়ে । আমরা তখন পানি পাই । টাংকি থেকে পানি না আসলে নলের এবং কলের পানি দেওয়ার ক্ষমতা নেই । তেমনি আল্লাহ যদি তাঁর ভাণ্ডার থেকে দান না করেন তাহলে আসবাব ও উপায় - উপকরণের ক্ষমতা নেই কিছু দান করার । তােমার দিলে এই একীন ও বিশ্বাস পয়দা করাে , তারপর শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করাে এবং শুধু আল্লাহর কাছে চাও , তারপর সাধ্যমত চেষ্টা করাে এবং যতদূর পারাে উপায় - উপকরণ গ্রহণ করাে । চেষ্টা না করা এবং উপায় - উপকরণ গ্রহণ না করার নাম তাওয়াক্কুল নয় । নবীজী আরাে বলেছেন- “ যখন তুমি কোন কিছু চাবে তখন ( কোন মানুষের কাছে না চেয়ে ) শুধু আল্লাহর কাছে চাবে , আর যখন তুমি ( বিপদে পড়ে ) সাহায্য চাবে তখন ( কোন মানুষের কাছে না চেয়ে ) শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য চাবে । কেননা সারা দুনিয়ার মানুষ যদি তােমার উপকার করতে চায় , তাহলে তারা তােমার ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তােমার আবার সারা দুনিয়ার মানুষ যদি তােমার ক্ষতি করতে চায় তাহলে তারা তােমার ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তােমার জন্য লিখে রেখেছেন ।  আমরা আল্লাহর উপর এভাবে তাওয়াক্কুল করবাে এবং আমাদের সম্পর্কে আল্লাহর যা ফায়ছালা তা খুশী মনে মেনে নেব্রা । কেননা আমাদের ভালাে ও মন্দ আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভালাে জানেন । তাই তাে । নবীজী বলেছেন ‘ আল্লাহ মানুষের জন্য যা ফায়ছালা করেন তার উপর রাজী - খুশী থাকা মানুষের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় এবং আল্লাহর ফায়ছালার উপর নারায হওয়া মানুষের জন্য বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় ।

Thank you for Reading this article.please share this and supportmy website to grow futher
আল্লাহকে ভয় করাে ( islamicweb20)

আল্লাহকে ভয় করাে ( islamicweb20)



কয়েকটি হাদীছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “ হে লােকসকল ! তােমরা আল্লাহকে ভয় করাে এবং মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করাে । যারা মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করে তারাই বুদ্ধিমান । আল্লাহর ভয়ে যার চোখে পানি আসে , আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন ।  তাকওয়া মানে আল্লাহর ভয় । যার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে সে কোন গােনাহ করতে পারে না । বরং আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য সব সময় সে গােনাহ থেকে দূরে থাকে এবং বেশী বেশী নেক আমল করে । আর যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করে সে কখনাে চিরস্থায়ী আখেরাত সম্পর্কে গাফেল হতে পারে না এবং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার আরাম আয়েশে ও ভােগ - বিলাসে লিপ্ত হতে পারে না । আল্লাহকে আমরা ভয় করবাে , কেননা আল্লাহ সর্বশক্তিমান । একদিন একদিন আমাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে হবে । কেয়ামতের দিন বিচারের জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং সব কাজের হিসাব দিতে হবে । যারা আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাদের ভালােবাসেন এবং সাহায্য করেন । আমাদের সমাজে এত অন্যায় - পাপাচার কেন ? এত জুলুম - অত্যাচার কেন ? কারণ মানুষ আল্লাহকে ভয় করে না , আল্লাহর আযাব গযবের কথা । চিন্তা করে না । মানুষ মৃত্যুকে স্মরণ করে না , আখেরাতের ফিকির করে । তাই এসাে , নবীজীর উপদেশ মতে এখন থেকেই আমরা আল্লাহকে ভয় করি এবং মৃত্যুকে স্মরণ করি ।
Thank you for Reading this article.please share this and supportmy website to grow futher

Thursday, September 2, 2021

হযরত হুদ ( আঃ ) ও শাদ্দাদ ( Islamicweb20)

হযরত হুদ ( আঃ ) ও শাদ্দাদ ( Islamicweb20)



 একদিন নৌকাযােগে কিছু লােক নদী পাড়ি দিচ্ছিল । তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী সুন্দরী মেয়ে ছিল । হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় নৌকাটি ডুবে গেল । ফলে সবাই নদীতে ডুবে মারা যায় । কিন্তু উক্ত মেয়েটি জীবিতাবস্থায় তার উপর ভাসছিল । দয়ালু আল্লাহর কৃপায় ঐ অবস্থায় এক শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটির মৃত্যু ঘটে । কিন্তু শিশুটি জীবিত থাকে । তক্তাটি ভাসতে ভাসতে নদীর কিনারে পৌছলে এক জেলে সেই শিশুকে বাড়ীতে নিয়ে যায় । শিশুটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জেলেদের সন্তানহীনা সর্দার তাকে ক্রয় করল । শিশুটি সর্দারের গৃহে লালিত - পালিত হতে লাগল । তার নাম রাখলাে শাদ্দাদ । এক দিন এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক আল্লাহর কাছে ধনরত্ন চেয়ে করুণভাবে প্রার্থনা । করল । তার এই করুণ প্রার্থনায় ফেরেশতাগণ বিচলিত হয়ে আল্লাহর কাছে তাকে ধনরত্ন দেওয়ার জন্য আবেদন করলেন । আল্লাহ বললেন , “ হে ফেরেশতাগণ ! তার ভাগ্যে ধনরত্ন নাই । ” ফেরেশতাগণ বললেন , “ আপনি দয়ালু , আপনি ইচ্ছা করলেই দিতে পারেন । " তার ভাগ্য প্রমাণ করবার জন্য আল্লাহ ফেরেশতাগণকে বললেন , “ বেহেশত হতে সুরামাসহ সুরমাদানী তার সামনে ফেলে রাখ । ” তিনি আরও বললেন , “ এই সুরমা চোখে লাগানাের সঙ্গে সঙ্গে মাটির নীচে সমস্ত ধনরত্ন দেখতে পাবে । ” ফেরেশতাগণ আল্লাহর হুকুমে ঐ ভিক্ষুকের পথের সামনে সুরমাদানীটি রেখে দিল । কিন্তু ভিক্ষুক সুরমাদানীর সামনে এসে কি মনে করে চোখ বন্ধ করল এবং অন্ধরা কিভাবে পথ চলে তা পরীক্ষা করে দেখল । সুরমাদানী পার হয়ে গিয়ে চোখ খুলে আবার চলতে লাগল । কিছুক্ষণ পর কয়েকজন সৈনিক ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিল । তারা সুরমাদানীটি দেখতে পেয়ে তা উঠিয়ে নেয় এবং তার গুণাগুণ । পরীক্ষার জন্য পথের পাশে খেলারত বালক শাদ্দাদকে ডেকে তার চোখে সুরমা লাগাতে চাইল । বালক শাদ্দাদ চোখে সুরমা লাগাল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে মাটির নীচের ধনরত্ন দেখতে পেল । ধূর্ত বালক মনে মনে ফন্দি এটে চীকার করে উঠলাে , “ তােমরাত আমার চোখে সুরমা দিয়ে আমাকে অন্ধ করে দিলে । অসহ্য জ্বালা করছে । ”
সৈন্যরা বালকের দুর্দশা দেখে সুরমাদানী ফেলে তাড়াতাড়ি সেখান হতে সরে পড়লাে । তারা চলে যেতেই বালকটি সুরমাদানী নিয়ে বাড়ী আসল । তখন আল্লাহ ফেরেশতাগণকে ডেকে বললেন , “ হে ফেরেশতাগণ ! ঐ বৃদ্ধের ভাগ্যে ওটা । নাই , বালকটির ভাগ্যেই ছিল । আজলের দিবসে তারা ঐরূপ ভাগ্যই কুড়িয়েছিল । " অতঃপর সেই বালক শাদ্দাদ বাদশাহ শাদ্দাদ ন | মে পরিচিত হলাে এবং সে শয়তানের প্ররােচনায় নিজেকে খােদা বলে দাবী করল । এইভাবে রাজ্যময় আল্লাহর অবিশ্বাস ও ধর্মহীনতায় ডুবে গেল । একদিন হযরত হুদ ( আঃ ) শাদ্দাদের নিকট গিয়ে বললেন , “ হে শাদ্দাদ ! আল্লাহ ব্যতীত কেউ উপাস্য নাই , আমি তার প্রেরিত পুরুষ । যিনি সারা দুনিয়ার মালিক এবং সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন তাকে সেজদা কর । এতে তােমার মঙ্গল হবে । আল্লাহ তােমাকে বেহেশত দান করবেন । শাদ্দাদ বলল , “ তােমার আত্মাহর বেহেশতের বিষয় বর্ণনা করে শুনাও । " হযরত হুদ ( আঃ ) তাকে বেহেশতের সৌন্দর্যসমূহ বর্ণনা করে শুনালেন । তা শুনে শাদ্দাদ বলল , “ হে হুদ ! আমি তােমার আল্লাহর বেহেশতের বর্ণনা শুনলাম । আমি নিজেই ঐরূপ বেহেশত তৈরী করব এবং সুখ শান্তিতে জীবন যাপন করব । তােমার আল্লাহর বেহেশতের আমার কোন প্রয়ােজন নাই । " এটা শুনে রাজপরিষদগণও তাকে সমর্থন করল । বেহেশত তৈরীর যুক্তি পরামর্শ দিতে লাগল এবং বেহেশতের জন্য স্থান নির্ধারণ করল । চারশত মাইল দৈর্ঘ্য প্রস্থের বেহেশত নির্মাণের কাজ শুরু হলাে । স্বর্ণ , রৌপ্য ও হীরা - জহরত দ্বারা আসন প্রস্তুত করে নিপুণভাবে সমস্ত বেহেশতটি সাজানাে হলাে । নানারূপ ফল - ফুলের বৃক্ষ রােপণ করে বেহেশতের সৌন্দর্য বাড়ানাে হলাে এবং দেশের সুন্দরী মেয়েদের বেহেশতবাসীদের খেদমতের জন্য নিয়ােগ করা হল । বেহেশতের সমস্ত কাজ সমাপ্ত হলাে । বাদশাহ শাদ্দাদ বেহেশতে গমনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগল । হায় দুর্ভাগ্য ! বাদশাহ শাদ্দাদ যখন পারিষদসহ বেহেশতে প্রবেশ করার জন্য প্রবেশ দ্বারে পৌঁছল , তখন তার সামনে পথরােধ করে যমদূত দাঁড়ালো । বাদশাহ শাদ্দাদ রাগান্বিত হয়ে বলল , “ কে তুমি ? আমার পথ ছাড় । আমি বেহেশতে প্রবেশ করছি দেখছাে না ? " যমদূত উত্তর করল , “ আমি মালাকুল মউত , আল্লাহর আদেশে তােমার জান ক্য করতে আসছি । " বাদশাহ শাদ্দাদ বলল , “ আমার আকাক্ষিত বেহেশতে প্রবেশ করার সুযােগ চাই । " উত্তরে যমদূত বলল , “ সে সুযােগ তােমাকে দেওয়া হবে না । দোযখে । প্রবেশের জন্য তৈরী হও । ” তার কথা শেষ হতেই শাদ্দাদের জান কবয করা হলাে । তার বেহেশত দেখার সৌভাগ্য হলাে না । তার প্রাণহীন দেহ ধূলায় লুটিয়ে পড়লাে । " সৃষ্টিকর্তার সমকক্ষ হওয়া সম্ভব নয় । অহঙ্কারীদের পতন অনিবার্য ।

Thank you for Reading this article.please share this and supportmy website to grow futher
হযরত নূহ ( আঃ ) ও মহাপ্লাবন ( islamicweb20)

হযরত নূহ ( আঃ ) ও মহাপ্লাবন ( islamicweb20)




 সারা দুনিয়ার মানবজাতি যখন শয়তানের প্রলােভনে অনাচার , অত্যাচার ও দেবদেবীর পূজায় ব্যস্ত তখন একদিন হযরত নূহ ( আঃ ) তাঁর সম্প্রদায়ের লােকদেরকে ডেকে বললেন , “ হে আমার সম্প্রদায় ! তােমরা শয়তানের প্রলােভনে পড়ে দেবদেবীর পূজা ও অন্যায় আচরণ করছ । তারা তােমাদের কোন রকম উপকার করতে পারবে না । অতএব তােমরা আল্লাহকে ভয় কর । তিনি তােমাদের মঙ্গল করবেন । " তিনি আরাে বললেন , বল , “ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু নূহ নবীউল্লাহু ” অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই , নূহ তার প্রেরিত পুরুষ । দেবদেবীর বিরুদ্ধে হযরত নূহ ( আঃ ) -এর এই অশুভবাণী শুনে তারা অত্যধিক রাগান্বিত হলাে এবং তার গলায় দড়ি বেঁধে সমস্তপথ টেনে বেড়াতে লাগল । তাতে তিনি তিনদিন শয্যাশায়ী হয়েছিলাে । তাছাড়াও তার উপর পাথর ছুঁড়ে এবং নানাবিধ অত্যাচার করে তাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল । এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলল , “ হে নূহ ! যদি তুমি এরকম কথা বন্ধ না কর , তবে তােমাকে হত্যা করা হবে । ” তাদের হুমকিতে হযরত নূহ ( আঃ ) বিচলিত হলেন না এবং তাঁর সত্য প্রচার হতেও বিরত হলেন না । তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন , “ হে আমার প্রভু ! আমাকে ও আমার অনুসারীদেরকে অত্যাচারীদের হাত হতে রক্ষা কর । হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে তােমার সত্য প্রচারে সাহায্য কর । " দয়ালু আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রার্থনা মনযুর করলেন এবং জানালেন , “ অচিরেই তাদের উপর অভিশাপ বর্ষিত হবে । সারাজাহান ব্যাপী মহাপ্লাবনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে । “ হে নূহ ! অতিশীঘ্র একটি নৌকা প্রস্তুত কর এবং তােমার অনুসারীদেরসহ সমস্ত জীবজন্তুর এক এক জোড়া করে এবং সমস্ত বৃক্ষ , শস্যাদির বীজ নিয়ে ঐ নৌকায় আরােহণ কর । " আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) -এর পরামর্শে হযরত নূহ ( আঃ ) তাঁর অনুসারীদের সহায়তায় একটি বিরাট নৌকা নির্মাণ করলেন । শুষ্ক মরু এলাকায় নৌকা তৈরি করতে দেখে বিধর্মীরা উপহাস - বিদ্রুপে অতিষ্ঠ করে তুলল । এবং নৌকাটিকে তারা পায়খানায় পরিণত করে মল দ্বারা তা পূর্ণ করল। করুণাময় আল্লাহ তা'আলার ইঙ্গিতে এক কুৎসিত বৃদ্ধা পায়খানা করার । সময় মলের মধ্যে পড়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে এক রূপবতী সুন্দরী যুবতীতে পরিণত হলাে । তা দেখে দেশের আবাল - বৃদ্ধবনিতা সকলেই ঐ মল তাদের গায়ে মেখে সুন্দর যুবক যুবতীতে পরিণত হতে লাগল । আল্লাহ তা'আলার অসীম কৃপায় অল্পক্ষণের মধ্যেই নৌকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল । হযরত নূহ ( আঃ ) তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন , “ হে আমার গােত্রের লােকেরা ! তােমরা এখনও চিন্তা করে দেখ সত্য প্রচার ভিন্ন ধনরত্ন চাইছি না । শুধু এক আল্লাহর বিশ্বাসী হও এবং তাঁর ইবাদত কর । তাতে তােমরা ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা পাবে । অন্যথায় তােমাদের উপর অতিশীগ্রই আল্লাহর গৰ নাযিল হবে । ” হযরত নূহ ( আঃ ) -এর এই উক্তি শুনে তারা হাসি - বিদ্রুপ করে তাঁকে পাগল বলে অভিহিত করল , এমনকি তাঁর বিধর্মী স্ত্রী - পুত্রেরাও উপহাস করতে লাগল । একদা হযরত নূহ ( আঃ ) -এর বিধর্মী পত্নী রান্না করছিল হঠাৎ উনান হতে পানির স্রোত প্রবাহিত হতে শুরু হলাে । তা হযরত নূহ ( আঃ ) -এর কর্ণগােচর হলে তিনি বুঝতে পারলেন আজ হতে মহাপ্লাবন শুরু হলাে এবং আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ মােতাবেক তাঁর অনুসারীদেরসহ সমস্ত জীবজন্তুর এক এক জোড়া এবং সব ফলমূল ও শস্যবীজসহ বিসমিল্লাহ বলে নৌকায় আরােহণ করলেন । তিনি তাঁর বিধর্মী স্ত্রী ও পুত্র কিনানকে নৌকায় উঠতে বলায় পুত্র অবজ্ঞার সাথে বলল , “ আমি পর্বতের চূড়ায় আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা করব । সেখানে প্লাবনের পানি পৌঁছতে পারবে না । ” মুহূর্তের মধ্যে বিরাট তুফান ও মহাপ্লাবনে কিনানসহ সমস্ত কিছু ডুবে গেল । হযরত নূহ ( আঃ ) পুত্রকে উদ্ধারের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন । আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন । “ হে নূহ ! বিধর্মী পুত্রের জন্য অনুশােচনা করে অজ্ঞের ন্যায় কাজ করাে না । ” হযরত নূহ ( আঃ ) নিজের ভুল বুঝতে পেরে বললেন , “ হে পরওয়ারদেগার ! আমি তােমার আশ্রয় গ্রহণ করছি । আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ , আমাকে মার্জনা কর । অন্যথায় আমি ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলভুক্ত হয়ে যাব । ” হযরত নূহ ( আঃ ) -এর ফরিয়াদ আল্লাহ তা'আলা মনযুর করলেন । মহাপ্লাবনে সারা জাহান ডুবে গিয়েছিল । একমাত্র কা'বা শরীফ আল্লাহর আরশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন । আল্লাহর আদেশে মহাপ্লাবন কমতে শুরু করল । নৌকাটি ভাসতে ভাসতে জুদী পর্বতের সাথে ঠেকল । ইতােমধ্যে নৌকার ভিতর মলমূত্রের দুর্গন্ধে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল । হযরত নূহ ( আঃ ) তার প্রতিকারের জন্য আল্লাহর কাছে মােনাজাত করলেন । আদেশ হলাে , “ হে নূহ ! হস্তীর মাথায় হাত রাখ । " সঙ্গে সঙ্গে হস্তীর নাসিকা হতে দুইটি শূকর বের হয়ে মলমূত্র খেয়ে ফেললাে । তাতে দুর্গন্ধ দূর হলাে । কিন্তু শয়তান হযরত নূহ ( আঃ ) -এর ক্ষতির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমতা চাইল । আল্লাহ তাকে ক্ষমতা প্রদান করলেন । সে শূকরের মাথায় হাত রাখল তার নাসিকা হতে দুইটি ইদুর বের হয়ে খাদ্যশস্য নষ্ট করতে লাগল । এই সংবাদ নূহ ( আঃ ) জানতে পেরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন । আল্লাহ তাকে বাঘের মাথায় হাত রাখতে বললেন । সঙ্গে সঙ্গে দুইটি বিড়াল বাঘের নাসিকা হতে বের হয়ে ইঁদুর দুইটি খেয়ে ফেলল । ইদুরের উৎপাত হতে খাদ্যশস্যাদি রক্ষা পেল । আল্লাহর আদেশে জিবরাঈল ( আঃ ) সাতটি খাল খনন করে দিলেন । প্লাবন কমে গেল । সাতটি খাল পরে সাতটি সাগরে পরিণত হয় । পৃথিবীতে মানুষ বসবাসের উপযােগী হলে হযরত নূহ ( আঃ ) তার অনুসারীসহ মাটিতে অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর আদেশে শস্যাদির বীজ বপন করে খাদ্য ফলাতে লাগলেন । এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন । “ অধিক পাপে ধ্বংস , অতএব পাপকাজ হতে বিরত থাকা উচিত।”

Thank you for Reading this article.please share this and supportmy website to grow futher

Wednesday, September 1, 2021

হযরত ইদরীস ( আঃ ) -এর বেহেশতে গমন ( islamicweb20)

হযরত ইদরীস ( আঃ ) -এর বেহেশতে গমন ( islamicweb20)




 একদা ইদরীস ( আঃ ) নির্জনে বসে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে গভীরভাবে মগ্ন ছিলেন । তিনি সেইদিন রােযা ছিলেন । এমন সময় হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর অনুমতি নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) আগন্তুককে চিনতে পারলেন না । সন্ধ্যায় তার খাবার আগন্তুকে প্রদান করে তিনি উপবাস থাকেন এবং ইবাদতে মগ্ন হলেন , কিন্তু আগন্তুক সেই খাবার গ্রহণ করলেন না । তিনিও ইবাদতে মগ্ন হলেন । পরদিন সকালে ইদরীস ( আঃ ) আগন্তুককে সঙ্গে করে আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির সৌন্দর্য দর্শন করার জন্য মাঠে গমন করলেন । তিনি আগন্তুকের সঙ্গে তিনদিন কাটালেন । কিন্তু আগন্তুক সেই তিনদিন কোন প্রকার খাদ্য গ্রহণ না করায় হযরত ইদরীস ( আঃ ) খুবই আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং আগন্তুককে জিজ্ঞাসা করলেন , ' আল্লাহর শপথ আপনি কে ? " আগন্তুক উত্তর দিলেন, “ আমি আযরাঈল , আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এসেছি । " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করলেন  “ আপনিতাে সমস্ত প্রাণীর জীবন হরণ করে থাকেন । আপনি কি আমার প্রাণ হরণ করতে এসেছেন ? হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন , “ হ্যা , আমি আল্লাহর আদেশে সকল প্রাণীর জীবন হরণ করে থাকি । কিন্তু আমি আপনার প্রাণ হরণ করতে আসিনি , শুধু বন্ধুত্ব করতে এসেছি । " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করান । “ তিনদিন আপনি আমার সাথে অতিবাহিত করেন , এই সময়ের মধ্যে কি কারাে জান কব করেছেন ? হযরত আযরাঈল ( আঃ ) উত্তর দিলেন,“ হ্যা আল্লাহর হুকুম হলেই আমি হস্ত প্রসারিত করে জান কবয় করে থাকি। " হযরত ইদরীস ( আঃ ) তাঁকে বললেন “ আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে রাযী আছি । যদি আপনি আমার জান কবয করে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করান।তাতে আমি আল্লাহকে বেশী করে ভয় করব এবং অধিক ইবাদত করতে পারব। হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন,“ হে ইদরীস আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা সম্ভব নয়।
হযরত আযরাঈল ( আঃ ) হযরত ইদরীস ( আঃ ) -এর জান কবয করার জন্য আল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন । হযরত আযরাঈল ( আঃ ) -এর প্রতি আল্লাহর আদেশ হলাে , " ইদরীসের জান কবয কর । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁর জান কবয করলেন আবার আল্লাহর কাছে তাকে পুনর্জীবিত করার জন্য আকুল প্রার্থনা জানালেন । আল্লাহ তাঁকে পুনর্জীবিত করেন । হযরত আযরাঈল ( আঃ ) জিজ্ঞাসা করলেন , “ হে বন্ধু ! মৃত্যুর স্বাদ কেমন ? " হযরত ইদরীস ( আঃ ) জানালেন , “ কোন প্রাণীর মাথা হতে পা পর্যন্ত চামড়া টেনে ছিড়লে যেমন কষ্ট হয় , আমার সেই রকম কষ্ট হয়েছে । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) বললেন , “ হে দোস্ত ! আমি আপনার জান কব্য । করেছি অতি আরামের সাথে । আর কারাে বেলায় এই রকমভাবে কবয করা হবে । পাপীদের অতি নিষ্ঠুরতার সাথে জান কব্য করা হয়ে থাকে । ” অতঃপর ইদরীস ( আঃ ) হযরত আযরাঈল ( আঃ ) -কে বললেন , “ হে বন্ধু ! আমার খুব দোযখ দেখার ইচ্ছা হচ্ছে , আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন । তা দর্শনে অধিক ভয় হবে । তাতে আল্লাহর ইবাদত আরও বেশী করতে পারব । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁর অনুরােধে এবং আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকে দোযখ দেখালেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) অতঃপর বেহেশত দেখার বাসনা প্রকাশ করে বললেন , “ আমার বেহেশত দেখার ইচ্ছা হচ্ছে । আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য দর্শন করে ধন্য হতে চাই এবং সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অধিক পরিমাণে আল্লাহর উপাসনা করতে চাই । ” হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাকে বেহেশতে নিয়ে গেলেন । হযরত ইদরীস ( আঃ ) বেহেশতে প্রবেশ করে একটি আসনে বসলেন । আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট বেহেশতের সৌন্দর্য দর্শনে মুগ্ধ হলেন । পরম শান্তিময় স্থান হতে বের হতে তার মন চাইল না । তার আসতে বিলম্ব দেখে হযরত আযরাঈল ( আঃ ) তাঁকে তাড়াতাড়ি ফিরার জন্য অনুরােধ জানালেন । কিন্তু ইদরীস ( আঃ ) মহা আরামদায়ক স্থান বেহেশতে হতে বাইরে আসতে অসম্মতি জানালেন । তখন হযরত আযরাঈল ( আঃ ) আল্লাহর কাছে আর করলেন এবং আল্লাহর আদেশ হলাে , “ হে আযরাঈল ! তাকে পরিত্যাগ করে চলে যাও । আমি তার ভাগ্যে এই রকম লিখেছি । তাছাড়া সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছে এবং দোযখ পরিভ্রমণ করে বেহেশতে প্রবেশ করেছে । ” “ ইবাদত দ্বারাই আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব । ”

Thank you for Reading this article.please share this and supportmy website to grow futher

Wednesday, August 25, 2021

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব ( রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান ( islamicweb20)

 



ইবনে ইসহাক ( রহঃ ) বর্ণনা করিয়াছেন যে , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত খাদীজা ( রাঃ ) নামায পড়িতেছিলেন । এমন সময় হযরত আলী ( রাঃ ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন ,হে মুহাম্মদ , ইহা কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , ‘ ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন । আমি তােমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি , যাঁহার কোন অংশীদার নাই ; তাঁহার এবাদত কর ও লা - ত , ওয্যার এবাদতকে অস্বীকার কর । হযরত আলী ( রাঃ ) বলিলেন , ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই । সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পছন্দ করিলেন না যে , দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ হইতে প্রকাশ্য ঘােষণার পূর্বে তাহা ফাস হইয়া যাক । অতএব তিনি বলিলেন , হে আলী , যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ । হযরত আলী ( রাঃ ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন । তিনি সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন , হে মুহাম্মাদ , গতকল্য আমাকে কি বলিয়াছিলেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন , সাক্ষ্য দাও যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নাই , তিনি একা , তাঁহার কোন অংশীদার নাই ; আর লাত ও ওয্যাকে অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর । সুতরাং হযরত আলী ( রাঃ ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন । তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গােপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গােপন রাখিলেন , প্রকাশ করিলেন না । হাব্বাহ ওরানী ( রহঃ ) বলেন , আমি হযরত আলী ( রাঃ ) কে একবার মিম্বারে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে , এরূপ আর কখনও দেখি নাই । হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল । অতঃপর তিনি ( হাসির কারণ স্বরূপ ) বলিলেন , আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল । একদিন আমি ‘ বাতনে নাখলা ’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত নামায পড়িতেছিলাম । এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন , ভাতিজা , তােমরা কি করিতেছ ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তিনি বলিলেন , তােমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই , তবে ( সেজদার সময় ) আপন নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানাে আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না । হযরত আলী ( রাঃ ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন । তারপর বলিলেন , আয় আল্লাহ , আপনার নবী ব্যতীত এই উম্মাতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই । এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন , অন্যান্য লােকদের অপেক্ষা সাত বৎসর পূর্বে আমি নামায পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি । ( Islamic website ) 

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

পূর্বেকার আসমানী কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) ও সাহাবায়ে কেরাম ( রাঃ ) দের আলােচনা ( islamicweb20)

 


আতা ইবনে ইয়াসার ( রহঃ ) বলেন , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর । ইবনে আস ( রাঃ ) এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম , তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল গুণাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন । তিনি বলিলেন , অবশ্যই , খােদার কসম তাঁহার যে সকল গুণাবলী কোরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাওরাতেও তাহাই বর্ণিত হইয়াছে । যেমন — হে নবী , আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী ও উম্মীদের ( অর্থাৎ আরবদের ) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি । আপনি আমার বান্দা ও রাসূল , আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি । তিনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন , বাজারে শােরগােলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং মাফ ও ক্ষমা করিয়া দেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষণ না মানুষ লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়িয়া বক্ৰদ্বীনকে সােজা করিয়া লইবে । ( অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাঁকাপথে চলিয়াছে উহা । ছাড়িয়া সেরাতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সােজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে । ) তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধীর কান এবং রুদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন । ( আহমাদ ) অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে , আল্লাহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্ৰদ্বীনকে সােজা না করিয়া তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না । অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ ( রহঃ ) এরূপ উল্লেখ

 করিয়াছেন যে , আল্লাহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাউদ ( আঃ ) এর উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন “ হে দাউদ , তােমার পর অতিসত্বর এক নবী আসিবেন , যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে , তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যেদ হইবেন । আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায় হইব , আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না । আমি তাঁহার অগ্র - পশ্চাতের সকল ভুল - ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি । তাঁহার উম্মাত আমার রহমতপ্রাপ্ত , আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐসকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী ও রাসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি । অতএব তাহারা কেয়ামতের দিন আমার নিকট এমনভাবে উপস্থিত হইবে যে , তাহাদের নূর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে । ” এইরূপে অনেক কথা আলােচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন , “ হে দাউদ , আমি মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাতকে সকল উম্মাতের উপর সম্মান দান করিয়াছি । ( বিদায়াহ ) সাঈদ ইবনে আবি হেলাল ( রহঃ ) হইতে বর্ণিত আছে যে ,হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) কে বলিলেন , আমাকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁহার উম্মাতের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন । তিনি বলিলেন , আমি আল্লাহ তায়ালার কিতাবে ( অর্থাৎ তাওরাতে ) তাহাদের সম্পর্কে এরূপ পাইয়াছি , আহমাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ও তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা ভাল - মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে । প্রত্যেক উঁচু জায়গায় ( উঠিতে ) তাহারা আল্লাহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় ( নামিতে ) তাহারা সুবহানাল্লাহ পড়িবে । তাহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে - বাতাসে ধ্বনিত হইবে । পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাহাদের ( কোরআন পাঠের ) মৃদু গুঞ্জন ( শ্রুত ) হইবে । ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাহারা নামাযে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । নামাযের কাতারের ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে তাহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে । যখন তাহার আল্লাহর রাহে জেহাদে বাহির হইবে তখন তাহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবে । আর যখন তাহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেন — বলিয়া হযরত কা'ব ( রহঃ ) দুইহাত প্রসারিত করিয়া দেখাইলেন — যেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে । তাহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না । ( আবু নুআঈম ) হযরত কা'ব ( রহঃ ) হইতে অনুরূপ এক রেওয়ায়াতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে , তাঁহার উম্মাত অত্যাধিক প্রশংসাকারী হইবে , তাহারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উচুস্থানে আল্লাহু আকবার বুলিৰে । ( নামায ইত্যাদি এবাদতের সময় নির্ধারণের জন্য ) সূর্যের খেয়াল রাখিবে । ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করিবে । কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গী বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ ধৌত করিবে ।